


মিউনিখ: জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপে, লায়োনেল মেসি! চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আশায় বস্তা বস্তা টাকা উড়িয়েছেন আরবের ধনকুবের নাসের আল খেলাফি। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়নি পিএসজি’র। তবে এবার তাদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠতে পারেন লুই এনরিকে। এই স্প্যানিশ কোচের হাত ধরেই দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে প্যারিসের ক্লাবটি। শনিবার রাতে মিউনিখের অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় খেতাবি লড়াইয়ে ইন্তার মিলানের মুখোমুখি পিএসজি। ইতালির জায়ান্টকে হারাতে পারলে শুধু ইউরোপের সেরাই নয়, সঙ্গে ঐতিহাসিক ত্রিমুকুট জয়েরও নজির গড়বে প্যারিসের ক্লাবটি। অবশ্য মেগা ম্যাচে ইন্তারও ছেড়ে কথা বলবে না। ২০১০ সালে হোসে মরিনহোর প্রশিক্ষণে শেষবার ইউরোপ সেরা হয়েছিল ইতালির ক্লাবটি। তারপর একাধিকবার হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে কাপ হাতছাড়া হয়েছে। তাই এবার ট্রফি সান সিরোয় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সিমোনে ইনজাঘি-ব্রিগেড।
শনিবার মিউনিখে ওসুমানে ডেম্বেলেদের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করছে ফ্রান্সের সম্মানও। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফরাসিদের দাপট সবারই জানা। কিন্তু ১৯৯৩ সালে মার্সেইয়ের পর আর কোনও ফরাসি ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বাদ পায়নি। শনিবার পিএসজি জিতলে আবার প্রমাণ হবে, ফুটবল এখন ‘কোচেস গেম’। কারণ, এনরিকের দলে মেসি, নেইমারদের মানের তারকা নেই। বড় নাম বলতে বার্সেলোনার বাতিল ওসুমানে ডেম্বেলে। কিন্তু তরুণ ফুটবলারদের একসুতোয় বেঁধে পিএসজি’কে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন স্প্যানিশ কোচ। ছোট ছোট পাস খেলে প্রান্তিক আক্রমণ শানিয়ে লিভারপুল-আর্সেনালের মতো হেভিওয়েট ক্লাবকে মাটি ধরিয়েছেন এমবাপে-ভিটিনহারা। তাছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার মন্ত্রও এনরিকের জানা। তাঁর প্রশিক্ষণে ২০১৫ সালে ত্রিমুকুট জেতে বার্সেলোনা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে মরিয়া তারকা কোচ। পরিসংখ্যানও পিএসজি’র পক্ষে। মুখোমুখি সাক্ষাতে মোট পাঁচ বারের মধ্যে তিনবারই জিতেছে প্যারিসের ক্লাবটি। হেরেছে মাত্র একবার। আক্রমণভাগে পিএসজি’র প্রধান অস্ত্র দুই উইঙ্গার ডেম্বেলে ও খচিভা কাভারাসেলিয়া। স্ট্রাইকার ডেসিরে ডুয়েও নিয়মিত গোল পাচ্ছেন। তবে পিএসজি’র পারফরম্যান্স পুরোপুরি নির্ভর করে মাঝমাঠে ভিটিনহা, ফাবিয়ান রুইস ও নেভেসের উপর। তাই এই তিন মিডিওকে শান্ত রাখতে মরিয়া থাকবেন ইন্তার কোচ ইনজাঘি।
১৯৬৪, ১৯৬৫ ও ২০১০— তিনবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ইন্তারকে এবার ফেভারিট মানছেন প্রাক্তন কোচ হোসে মরিনহো। পর্তুগাল কোচের কথায়, ‘আমি ইন্তারকে ত্রিমুকুট জিতিয়েছিলাম। ইন্তার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়নি। তাই আমার সেই রেকর্ড ভাঙবে না। আমি চাই ইন্তারই চ্যাম্পিয়ন হোক। আর বার্সালোনাকে হারানোর পর ওরাই ফেভারিট।’ কোচ ইনজাঘির ফুটবল দর্শন, রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নেওয়া। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজও পুরোপুরি ফিট। মার্কাস থুরামও নিয়মিত গোল পাচ্ছেন। মাঝমাঠে ভরসা জোগাচ্ছেন বারেলা, মিখিতারিয়ানরা। তবে ইন্তারের প্রধান শক্তি বাস্তোনি, আকার্বিদের নিয়ে গড়া মজবুত রক্ষণ।
ম্যাচ শুরু রাত ১২-৩০ মিনিট।
সরাসরি সম্প্রচার সোনি স্পোর্টসে।