Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন জামা নিয়ে ফিরত প্রিয়াঙ্কা, মেয়ের ছবি বুকে আঁকড়ে পুজো কাটে বাবা-মায়ের

মেয়েটার মায়া ছিল অন্যরকম। নিজে দামি পোশাক কিনতেন না। কিন্তু, প্রতিবছর পুজোর সময় মায়ের জন্য ভালো শাড়ি এবং বাবার জন্য জামা-প্যান্ট নিয়েই ফিরতেন।

নতুন জামা নিয়ে ফিরত প্রিয়াঙ্কা, মেয়ের ছবি বুকে আঁকড়ে পুজো কাটে বাবা-মায়ের
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান; মেয়েটার মায়া ছিল অন্যরকম। নিজে দামি পোশাক কিনতেন না। কিন্তু, প্রতিবছর পুজোর সময় মায়ের জন্য ভালো শাড়ি এবং বাবার জন্য জামা-প্যান্ট নিয়েই ফিরতেন। তার জন্য তাঁকে পুজোর আগে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হতো। তাতে আপত্তি ছিল না। নতুন পোশাকে বাবা-মায়ের মুখে হাসি দেখলে তাঁর সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যেত। অতিরিক্ত দু’পয়সা রোজগারের জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করতেন। সেখান থেকেও বাবা-মায়ের জন্য পোশাক কিনে বাড়ি ফিরতেন। ষষ্ঠীর সকাল থেকেই বাড়ি মাতিয়ে রাখতেন। কাছেই বর্ধমান শহর। মাকে পুজো দেখাতেও নিয়ে যেতেন। এছাড়া নিজেও বান্ধবীদের সঙ্গে এপাড়া ও ওপাড়া ঘুরতেন। এবার সবটাই স্মৃতি শক্তিগড়ের নান্দুরের প্রিয়াঙ্কা হাঁসদার বাবা-মায়ের। বাড়িতে থাকা মেয়ের ছবি দেখেই পুজোর দিন কাটছে তাঁদের। চারিদিকে শুধুই শূন্যতা।

Advertisement

বাবা সুকান্ত হাঁসদা বলেন, মেয়ে আর নেই, এটা এখনও ভাবতে পারি না। ওই তো আমাদের সমস্ত কিছু ছিল। ও কী দোষ করেছিল যে এভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল? সেদিন অভায়া আন্দোলনের জেরে উত্তাল রাজ্য। মোবাইলে সেসব দৃশ্য দেখছিলাম। ১৪ আগস্টের রাত ছিল। হঠাৎ করে শুনলাম আমার মেয়েকে গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছে। তড়িঘড়ি ছুটে গিয়ে দেখি, মেয়ের পুরো শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। মেয়ের খুনির শাস্তির দাবিতে সেদিন পুরো রাজ্য  আমাদের পাশে এসে দাঁড়াল। রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ কোনও কিছুই বাদ থাকল না। খুনি ধরা পড়ল। কিন্তু, আমার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা তো আর বাড়ি ফিরল না। চোখের জল মুছতে মুছতেই সুকান্তবাবু বললেন, জানেন সর্বক্ষণ ওর জন্য মন খারাপ করে। কেন ওকে খুন করল বলুন তো?
বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটি এলাকায় একটি সংস্থায় অনলাইন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। বর্ধমানে বেশ কিছুদিন কাজ করার পর বেঙ্গালুরুর  উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।  সম্পর্ক গড়ায় প্রণয়ে। পরবর্তীকালে সম্পর্কে চিড় ধরে। আর সেই কারণেই ওই যুবক বেঙ্গালুরু 
থেকে শক্তিগড়ের নান্দুরে এসে গলার নলি কেটে প্রিয়াঙ্কাকে নৃশংসভাবে খুন করে। খুনিকে ধরতে পুলিশের কার্যত কাল ঘাম ছুটে গিয়েছিল। ন’দিন পর তাকে  পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর কেটে গিয়েছে একটি বছর। কিন্তু, মেয়ের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে মা কাজল হাঁসদাকে। তিনি বলেন, পুজো এলেই মেয়ের কথা খুব মনে পড়ে। বাড়ির কেনাকাটা ওই করত।  নিজের শখ পূরণ না করে আমাদের জন্য পুজোর সময় নতুন পোশাক কিনে আনত। মেয়ের সঙ্গেই পুজো দেখতে যেতাম। এখন আর প্রতিমা দেখতে বের হয় না। মেয়ের ছবি বুকে আঁকড়ে ধরেই বোধন থেকে দশমী কেটে যায়। আমার প্রতিমা আগেই বিসর্জন হয়ে গিয়েছে। তাই বোধনের ঢাকের আওয়াজ আর অনুভূতি জাগায় না। তবে পুজো এলে মনে হয় ওই বুঝি মেয়েটা দরজায় কড়া নাড়ছে। ছুটে যাই। দরজা খুলে দেখি শুধুই শূন্যতা। 
 মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে সুকান্ত ও কাজল হাঁসদা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ