নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থার পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি সংশোধন না করা হলে আর টি বি নম্বর দেবে না মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এর ফলে সেগুলি আর মাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। পর্ষদের তরফে বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থাগুলিকে এই কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য তাদের ১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতি বইয়ের তিনটি করে মুদ্রিত খসড়া কপি পর্ষদে জমা দিতে হবে। পর্ষদের বিশেষজ্ঞ কমিটি তা দেখে সবুজ সংকেত দিলে তবেই মিলবে টি বি নম্বর।
বেসরকারি প্রকাশনার বিভিন্ন বইয়ের নানা আপত্তিকর বিষয় সামনে আসে মাঝেমধ্যেই। বিতর্কের মুখে পড়তে হয় পর্ষদ থেকে শিক্ষাদপ্তরকে। তাই এবার বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে পর্ষদ। কয়েক বছর হল, টি বি নম্বর পুনর্নবীকরণের বিষয়টি চালু করেছে পর্ষদ। তা সত্ত্বেও অনেক সময় বিতর্কিত বিষয় নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে। সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাই সমস্যা নিরসনে এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। যদিও সহায়িকা বইয়ের ক্ষেত্রে পর্ষদের সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই। তবু সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে পর্ষদকে। কারণ কখনও প্রচ্ছদ, কখনও অন্য কোনও ইস্যুতে বিতর্ক হচ্ছে।
শুধু ভুলভ্রান্তি সংশোধন নয়, পর্ষদের নির্দিষ্ট করে দেওয়া বইয়ের মাপ, অক্ষরের মাপ এবং কাগজের মান হুবহু মেনে চলতে হবে প্রকাশকদের। নবম ও দশম শ্রেণির সিলেবাস ডাউনলোড করে নিতে হবে পর্ষদের ওয়েবসাইট থেকেই। সিলেবাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন কোনও কিছুই বইয়ে রাখা যাবে না। এই শর্তগুলি মানার পাশাপাশি ৩০ জুনের মধ্যে ২৪ হাজার টাকা পর্ষদে জমা দিতে বাধ্য থাকবে সংস্থাগুলি। সেই টাকা জমা দেওয়ার রসিদ এবং বইয়ের খসড়া একসঙ্গে জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত সংশোধনীর সময়ও বই পিছু আট হাজার টাকা জমা নেমে পর্ষদ। বইয়ের চূড়ান্ত কপি জমা পড়ার পর পর্ষদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এমনকী, টি বি নম্বর বাতিল করা হলেও কোনও কারণ দেখাতে পর্ষদ বাধ্য থাকবে না।
পর্ষদের তরফে এক আধিকারিক বলেন, ‘পাঠ্যবই প্রকাশনা সংস্থাগুলির বড় ব্যবসার ক্ষেত্র। তাই এগুলির প্রয়োজনীয় গুণমান নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।’ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার বলেন, ‘কারণ না দেখিয়ে টি বি নম্বর বাতিলের স্বাধীনতা পর্ষদ না রাখলেই পারত।’