নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হিরের টুকরো ছেলে। হীরক জয়ন্তী। হিরের চেয়ে দামি। ঠিক এভাবেই চিরকাল হিরেকে অলঙ্কার ও খনিজ জগতে সর্বোত্তম মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রুপো কেনা যায়। এমনকী সোনাও কিন্তু হিরে কিছু দশক আগে পর্যন্ত মধ্যবিত্তের ভাবনা ও নাগালের মধ্যে ছিল না। ক্রমেই হিরে সস্তা হয়েছে। এবং সোনা হয়েছে দামি। হিরে কেন সস্তা হয়েছে? কারণ, প্রাকৃতিক হিরের পাশাপাশি ল্যাব গ্রোন হিরে ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে হিরে নির্মাণ। কিন্তু প্রাকৃতিক হিরে প্রায় অমূল্যই ছিল। ২০২৪ সাল থেকে সব হিরের চাহিদাই দ্রুত নিম্নগামী হতে শুরু করে। আর এখন ট্রাম্পের শুল্ক নীতির জেরে হিরের চাহিদা একেবারে তলানিতে। তাই প্রবল সংকটে ইন্ডাস্ট্রি। বাণিজ্য মন্ত্রককে চিঠিও দিয়েছে ডায়মন্ড প্রোমোশন কাউন্সিল।
শুধুমাত্র হিরের ব্যবসা করা দোকান দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হিরের কাজের জন্য বিখ্যাত গুজরাতের সুরাত এবং মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারের কর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বাজার খারাপ, উৎপাদন কম, টান পড়ছে মজুরিতেও। চাহিদা কমছে বিদেশেও। ভারত থেকে হিরের রপ্তানি এক ধাক্কায় ১৪ শতাংশ কমেছে বিগত বছরের তুলনায়। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে কমেছিল ১৩ শতাংশ। গত বছর মোট গহনা রপ্তানি কমে হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা ছিল ১৮ হাজার কোটি টাকা। বেশি ধাক্কা খেয়েছে হিরে। সোনা নয়। দেশীয় বাজারেও একই হাল। কিন্তু হিরে শিল্প বেঁচেই আছে রপ্তানির উপর। ২০২৩ সালে শুধু হিরে রপ্তানি হয়েছিল ১১ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী বছরে হয়েছে ন’হাজার কোটি টাকা। আর এই বছরে আরও কমে যাওয়ার আভাস প্রথম দুই ত্রৈমাসিকেই। তুলনায় বাড়ছে সোনার চাহিদা। অথচ দামের নিরিখে সোনার মূল্য বেড়েই চলেছে। ১ লক্ষ টাকায় ১০ গ্রামের সোনা কিনতেও রাজি হয়ে যাচ্ছে আম ভারতবাসী। দাম বাড়ছে চাহিদাও বাড়ছে। সবথেকে বড় কারণ হল হিরে লগ্নির নিরাপত্তা দিচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহেই হিরের দাম কমছে। সুতরাং আজ একটি দামে কিনলে পরবর্তী সপ্তাহে দেখা যাবে একই হিরের দাম কমেছে আরও। পক্ষান্তরে সোনার ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে মানুষ প্রবল উৎসাহী। অতএব অলঙ্কার দুনিয়ায় নয়া সম্রাট সোনা। সিংহাসনচ্যুত হিরে!