সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ক্ষতিকর রাসায়নিক সারমুক্ত কাঁচা চা পাতার সরকারি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই দাবিতে কাঁচা পাতা কেনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল নর্থ বেঙ্গল টি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে সংগঠনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় ধানুটি জানান, উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৫০টি বটলিফ ফ্যাক্টরি তাদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত। এরা কেউই শংসাপত্রবিহীন কাঁচা চা পাতা গ্রহণ করবে না।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র চা বাগানে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব টি বোর্ড ও রাজ্য সরকারের। কিন্তু সেই ব্যবস্থা না থাকায় ফ্যাক্টরিগুলিকে বাধ্য হয়ে ওই পাতা কিনতে হয়েছে। পরে উৎপাদিত চায়ে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি ধরা পড়ায় বিপুল পরিমাণ চা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার ফলে বড়ো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে উৎপাদকদের।
প্রায় দু’বছর আগে জলপাইগুড়িতে টি বোর্ড, ক্ষুদ্র চা চাষি ও উৎপাদকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শংসাপত্র প্রদানের দায়িত্ব সরকার ও টি বোর্ডের বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের সামনে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে।
অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠনের শীর্ষনেতা বিজয়গোপাল চক্রবর্তী নর্থ বেঙ্গল টি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, বটলিফ ফ্যাক্টরি ও ক্ষুদ্র চা চাষিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং গোটা বিষয়টি সরকারের নজরেও আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি কৃষিদপ্তরের আওতাধীন। নতুন সরকার শিল্পবান্ধব মনোভাব নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আগামী ৩১ জুলাই নবান্নে কৃষিদপ্তর এ বিষয়ে বৈঠক ডেকেছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী। এখনও কাঁচা চা পাতা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে পরীক্ষার জন্য নমুনা কলকাতায় পাঠাতে হয় এবং রিপোর্ট আসতে প্রায় তিন দিন সময় লাগে।