Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬

রাস্তায় নামাজপাঠ অধিকার হতে পারে না! পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

রাস্তা বা সাধারণের ব্যবহারের জায়গায় নামাজপাঠ  সাংবিধানিক অধিকার হতে পারে না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের।

রাস্তায় নামাজপাঠ অধিকার হতে পারে  না! পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৯:০৫
Prefer us on Google

এলাহাবাদ: রাস্তা বা সাধারণের ব্যবহারের জায়গায় নামাজপাঠ  সাংবিধানিক অধিকার হতে পারে না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের। বিচারপতি গরিমা প্রসাদ ও সরল শ্রীবাস্তবের বেঞ্চ জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু তাতে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে রাষ্ট্র পদক্ষেপ করতেই পারে। 

Advertisement

উৎসবের দিনে রাস্তায় নামাজপাঠ স্বাভাবিক চিত্র। জমায়েত বড় হলে প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু কেউ নিজের জমিতে নামাজপাঠ বা ধর্মীয় জমায়েত করতে চাইলে কেন অনুমতি নিতে হবে? সম্বল জেলার ইকোনা গ্রামের এক বাসিন্দা এই প্রশ্ন তুলেই আদালতে আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, ১৬ জুন ২০২৩ তারিখের একটি নিবন্ধিত দানপত্রের মাধ্যমে তিনি একটা জমির মালিক হয়েছেন। সেখানে নামাজ পড়তে কারো অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে না। এই কাজে বাধা দেওয়া তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন। অন্যদিকে রাজ্য সরকার জানায়, নথিতে জমিটি ‘আবাদি জমি’ (জনগণের ব্যবহারের জমি) হিসাবে নথিভুক্ত। আবেদনকারী আইনগত মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের দাবি, উল্লিখিত দানপত্রে জমিটির সুনির্দিষ্ট বিবরণ নেই। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিটিতে ইদের সময় নামাজপাঠ হত। তাতে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু আবেদনকারী, গ্রাম ও বাইরের লোকজনকে ডেকে নিয়মিত জমায়েত এবং নামাজপাঠ চালু করতে চাইছিলেন। যা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। নষ্ট হতে পারে এলাকার ভারসাম্য। 
দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানায়, সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেও তাতে কিছু শর্ত অবশ্যই রয়েছে। জনসাধারণের জমি সাধারণ ব্যবহারের জন্য, সেখানে নিয়মিত ধর্মীয় কাজ চালালে নাগরিক শৃঙ্খলা প্রভাবিত হতে পারে। আদালত ব্যক্তিগত উপাসনা ও সংগঠিত ধর্মীয় সমাবেশের মধ্যে পার্থক্যও টানে। ঘরের মধ্যে বা সীমিত ব্যক্তিগত পরিসরে প্রার্থনায় আপত্তি বা সমস্যা নেই। কিন্তু ওই জমায়েত যদি বড়ো সমাবেশের আকার নেয়, তাহলে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, প্রশাসন অশান্তির জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে না। জনশৃঙ্খলা বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আবেদনকারী জমির মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং জমিটি জনসাধারণের জমি হিসেবেই নথিভুক্ত থাকায় আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ