Bartaman Logo
১৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

প্রাণায়াম

প্রাণায়ামের মত প্রত্যাহার যোগও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কোন জীবিত সত্তার প্রাণবায়ুর গতিবিধিকে নিয়ন্ত্রণ করার যে পদ্ধতি তারই নাম প্রাণায়াম। “প্রাণান্‌ যময়ত্যেষ প্রাণায়ামঃ”।

প্রাণায়াম
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রাণায়ামের মত প্রত্যাহার যোগও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কোন জীবিত সত্তার প্রাণবায়ুর গতিবিধিকে নিয়ন্ত্রণ করার যে পদ্ধতি তারই নাম প্রাণায়াম। “প্রাণান্‌ যময়ত্যেষ প্রাণায়ামঃ”। আধ্যাত্মিক সাধক এই প্রাণায়াম-পদ্ধতির দ্বারা দেহের প্রাণশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাণায়াম সম্পর্কে একটা বিশেষ কথা মনে রাখতে হবে, প্রাণায়ামের সঙ্গে বিন্দুধ্যানের সম্পর্ক রয়েছে। প্রাণায়াম অভ্যাসকালে মনকে একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে নিবদ্ধ রাখতে হবে। প্রাণায়ামের যদি বিন্দু ধ্যান থেকে বিচ্যুত করে নেওয়া হয় তাতে নিজের মানস শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হবে, মন চঞ্চল হয়ে পড়বে।
অনুরূপভাবে, প্রত্যাহার যোগের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে ধারণার। ‘প্রত্যাহার’ শব্দের সমার্থক শব্দ হ’ল withdrawal। ধ্যান ও ধারণার মধ্যে পার্থক্য হ’ল এই যে, ধ্যান হ’ল কিছুটা স্থিরতামূলক, অর্থাৎ যাঁর ধ্যান করা হচ্ছে সেই উদ্দিষ্ট সত্তা স্থির… অচঞ্চল; পক্ষান্তরে ধারণায় মনের বিষয় সরে সরে যায়। অর্থাৎ ধারণা-ক্রিয়ার মধ্যে একটা চলমানতা রয়েছে কিন্তু ধ্যানক্রিয়ার মধ্যে কোন চলমানতা নেই। আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের গুরুত্ব অপরিসীম। সাধনার প্রারম্ভিক স্তরে সাধককে বিশ্বের বস্তুতান্ত্রিকতা থেকে মনকে প্রত্যাহার করতে হবে।
এখন এই বস্তুজগৎ থেকে মনের সমস্ত বৃত্তিকে প্রত্যাহার করে নিয়ে তার পর কী করবে? এই প্রত্যাহৃত মানস বৃত্তিগুলোকে পরিচালিত করবে কার দিকে? প্রশ্ন হ’ল, এই যে মানস বৃত্তিগুলো বাইরে থেকে তুলে নিয়ে একটা বিন্দুতে সংহত করলে কিন্তু কোন একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে চালালে না, তাতে হবে কী?—না, সেই সমস্ত প্রত্যাহৃত অথচ অপরিচালিত বৃত্তি মনের প্রশান্তিকে ব্যাহত করবে, অবচেতন ও অচেতন মনকে চঞ্চল করবে। এটা বড়ই বিপজ্জনক অবস্থা। অতীতেও এমনটি হয়েছে, ভবিষ্যতেও এমনটি হতে পারে যে, সমর্থ গুরুর নির্দেশনা না নিয়ে যদি কোন সাধক কেবল বই পড়েই সাধনা শুরু করে দেয়, তাতে তার ক্ষতির সম্ভাবনা যথেষ্ট। তাই যখনই বাইরের জগৎ থেকে তোমার মানস বৃত্তি বা প্রবণতাকে প্রত্যাহার করে নিলে, সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোকে কোন চলমান মানস বিষয়ের দিকে তাদের পরিচালিত করে দাও। সেই চলমান বিষয়টা কী? সেটা হ’ল তোমার চিত্ত। তোমার বিষয়ীভূত ‘আমি’। মনের চিত্ত অংশ গতিশীল…চলমান। তাহলে দেখছি, প্রত্যাহৃত মানস বৃত্তিগুলোকে চিত্তের দিকে চালাতে হবে, বাইরের বস্তুর দিকে নয়। সেক্ষেত্রে বাইরের বস্তুর দিকে মনের ছোটাটা বন্ধ হয়ে যায়, তার বদলে মানস বৃত্তিগুলোর গতি হয় মনের ভেতরের দিকে।

Advertisement

শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির ‘আনন্দ বচনামৃতম্‌’ (১ম-৩য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ