Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাসপুরে চাষির জমিতে ফলল ১০০ কেজি ওজনের আলু!

দাসপুরে মিলল ১০০ কিলো ওজনের দৈত্যাকার আলু। সোমবার দাসপুর-১ ব্লকের শান্তিপুরে গোষ্ঠবিহারী মূলার জমি খুঁড়ে বের করা হয়েছে ওই দানবীয় মেটে আলুটিকে।

দাসপুরে চাষির জমিতে ফলল ১০০ কেজি ওজনের আলু!
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুরে মিলল ১০০ কিলো ওজনের দৈত্যাকার আলু। সোমবার দাসপুর-১ ব্লকের শান্তিপুরে গোষ্ঠবিহারী মূলার জমি খুঁড়ে বের করা হয়েছে ওই দানবীয় মেটে আলুটিকে। যা ঘাটাল মহকুমায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গোষ্ঠবিহারীবাবু বলেন, আলুর ওজন এতো হবে ভাবতেই পারিনি। চারজন লোক নিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাঁশ দিয়ে পালকির মতো করে জমি থেকে তুলে আনতে হয়েছে। নাড়াজোল রাজ কলেজের বোটানি বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয়কুমার দত্ত বলেন, এটাকে পিঙ্ক ইআম (Pink Yam) বলা হয়। বাংলায় এর নির্দিষ্ট কোনও প্রতিশব্দ নেই। এলাকা ভেদে এই ধরনের আলুকে মেটে আলু, খাম আলু, খামালু, চুপড়ি আলু বলা হয়। সাধারণত এই ধরনের আলুর ওজন পাঁচ থেকে আট কেজি হয়ে থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে ৬০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ১০০ কেজি ওজনের আলু নিঃসন্দেহে বিরল। ঘাটাল মহকুমা সহকারী কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) নীলরতন ভৌমিক জানিয়েছেন, ওই আলুটির নাম খামালু, ইংরেজিতে পার্পল ইআম। ঘাটাল মহকুমায় এতো বড় খামালু এর আগে কখনও হয়নি।

Advertisement

পিঙ্ক ইআম বা পার্পল ইআম যাই হোক না কেন, এটি লতানো গাছের একটি কন্দমূল। মাটির নীচে এটি বড় হয় বলে অনেকে একে মেটে আলুও বলেন। নানা ধরনের ফসল ফলানো গোষ্ঠবিহারীবাবুর অন্যতম নেশা। কয়েক বছর আগে দাসপুরের মতো জায়গাতে স্ট্রবেরি লাগিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন। বছর খানেক আগে পতিত জমিতে তিনি শখ করে বেশ কয়েকটি মেটে আলু লাগান। সাধারণত এইসব এলাকার খামালু পাঁচ-সাত-দশ কেজি পর্যন্ত হয়। তাই সত্তোরোর্ধ্ব ওই চাষি সোমবার নিজেই শাবল দিয়ে ওই খামালু তুলতে বসেন। তিনি বলেন, মাটি খুঁড়ে আলুর শেষ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ফলে আরও কয়েক জন লোক নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আলুটির শেষ দেখতে পেলেও তুলতে পারছিলাম না। সেটিকে নাড়ানোই যাচ্ছিল না। তখন আলুটিকে চারদিক দিয়ে কাছি দিয়ে বেঁধে মাটি থেকে তোলার ব্যবস্থা করি।
এলাকার মানুষ আগে কখনও এত বড় খামালু দেখেননি, তাই খবরটি চাউর হতেই গোষ্ঠবাবুর বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন সবাই। বাড়িতে এক দিন রাখার পর পাশের গোবিন্দগর বাজারে ৩০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করে আসেন।
বোটানির অধ্যাপক বলেন, এর বাইরের চামড়া খসখসে এবং অনেকটা কালচে বা খয়েরি রঙের হয়, কিন্তু ভেতরের অংশ সাদা বা সামান্য বেগুনি রঙের হতে পারে। এই ঝুপড়ি আলু পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রচুর আঁশ থাকায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ