


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পারিবারিক বিবাদের জেরে শাশুড়িকে তালাবন্ধ করে চলে গেলেন বউমা। শনিবার এমন বেনজির এক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন গোবরডাঙার জানাপুল এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পুলিস। এরপর বউমার বিরুদ্ধে গোবরডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন শাশুড়ি রুবি দত্ত।
জানা গিয়েছে, গোবরডাঙার জানাপুল বারোয়ারিতলা এলাকার বাসিন্দা কনক দত্তের মা রুবি দত্ত (৬৫)। কনক কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। ২২ বছর আগে কনকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রুপা দের। অভিযোগ, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই দাম্পত্য অশান্তি শুরু হয়। ৯ আগস্ট রুবি দত্ত আসেন হাবড়ায় বড় মেয়ের বাড়িতে। রবিবার সকাল আটটায় ফেরেন বাড়িতে। অভিযোগ, ফিরতেই বউমার রোষানলের মুখে পড়তে হয় বৃদ্ধাকে। তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দিতে বউমা আপত্তি করেন বলেই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বাধ্য হয়ে বাড়ির বারান্দায় এসে বসেন বৃদ্ধা। শুরু হয় বিবাদ। এরপর শাশুড়িকে বাড়ির ভিতরে রেখে বাইরে কলপসিবলের গেটে তিনটি তালা লাগিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন বউমা। বাড়িতে বন্দি অবস্থায় কাঁদতে থাকেন রুবি দত্ত।
সেই কান্না শুনে প্রতিবেশীরা খবর দেন থানায়। পরে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পুলিস। এনিয়ে রুবিদেবী বললেন, বহু বছর ধরেই বউমা বিভিন্ন অজুহাতে আমার উপর মানসিক অত্যাচার করে আসছে। এদিন মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরতেই দেখি ঘরের জিনিসপত্র সব বাইরে রাখা। আমাকেও বাড়িতে ঢুকতে দেবে না বলেই জানায়। শেষে গেটে তালা লাগিয়ে নাতনিকে নিয়ে বউমা চলে যায়। যাওয়ার সময় শাসানি দিয়ে বলে যায়, তুই এখানেই পচে-গলে মর! পুলিস এসে আমায় উদ্ধার করেছে।
এ প্রসঙ্গে রুপার স্বামী কনক দত্ত বলেন, স্ত্রী আমার সঙ্গেও অশান্তি করেন। বৃদ্ধা মাকে সহ্য করতে পারেন না স্ত্রী। আমি কলকাতা থেকে ফিরে নিজেদের বাড়িতে যাইনি। মায়ের সঙ্গে বড়দির বাড়িতেই আছি। এদিকে গোবরডাঙা থানার পুলিস জানিয়েছে, রুবি দত্ত একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।