Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের নিষ্ক্রিয়তায় অশান্তি মুর্শিদাবাদে, রাজনৈতিক ইন্ধনের প্রমাণ, রিপোর্ট হাইকোর্টের ৩ সদস্যের কমিটির

ওয়াকফ সংশোধনী বিল ইস্যুতে সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের হিংসার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা দিল হাইকোর্ট গঠিত তিন সদস্যের কমিটি।

পুলিসের নিষ্ক্রিয়তায় অশান্তি মুর্শিদাবাদে, রাজনৈতিক ইন্ধনের প্রমাণ, রিপোর্ট হাইকোর্টের ৩ সদস্যের কমিটির
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওয়াকফ সংশোধনী বিল ইস্যুতে সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের হিংসার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা দিল হাইকোর্ট গঠিত তিন সদস্যের কমিটি। অশান্তির জন্য মূলত পুলিসি নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করা হয়েছে রিপোর্টে। শুধু তাই নয়, অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক ইন্ধনও ছিল বলে রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। 

Advertisement

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রেজিস্ট্রার (আইন) যোগিন্দর সিং, ওয়েস্ট বেঙ্গল লিগাল সার্ভিস অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি সত্য অর্ণব ঘোষাল এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল জুডিশিয়াল সার্ভিসের রেজিস্ট্রার সৌগত চক্রবর্তী। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ২৭ এপ্রিলের তৈরির রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা পড়ে ১৫ মে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে ধুলিয়ানে যে ঘটনা ঘটেছিল, সে সময় স্থানীয় পুলিসের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। শুধু বেতবোনা এলাকাতেই ১১৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিংসার ঘটনার পর যারা মালদহে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের জোর করে ফেরানো হয়েছে। পুলিসের বিরুদ্ধে তীব্র অসহযোগিতার অভিযোগও করা হয়েছে রিপোর্টে। 
এখানেই শেষ নয়, তিন সদস্যের বিশেষত্ব কমিটি রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছে, সামশেরগঞ্জ, হিজলতলা, শিউলিতলা, দিগরি এলাকা থেকে মুখে কাপড় চাপা দিয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকে ছিল। তাদের সঙ্গে ছিলেন শাসকদলের স্থানীয় কাউন্সিলার মেহবুব আলম। তাঁর নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল। পুলিস সব দেখেও পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল। ৩০০ মিটার দূরে থানা অবস্থিত হলেও পুলিস কিছু করেনি।‌ রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামশেরগঞ্জের বিধায়ক পুরো ঘটনা দেখেও সেখান থেকে চলে যান। এছাড়াও রিপোর্টে ছাত্রছাত্রীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দোকান, বাড়ি, টোটো, সাইকেল, জামাকাপড় সব জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকার সোনার গয়না লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। হাইকোর্ট গঠিত তিন সদস্যের এই রিপোর্ট প্রকাশে আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ