নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় দেড় মাস অতিক্রান্ত। ডায়মন্ড পার্কে ভাড়া বাড়িতে গৃহবধূকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আততায়ী এখনও অধরা। তদন্তে ‘খুনি’কে চিহ্নিত করতে পারলেও গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। লালবাজার সূত্রে খবর, শেষ ক্রাইম বৈঠকে এই কেসের দ্রুত গ্রেপ্তারির নির্দেশ দিয়েছেন পুলিস কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা। এরপরেই ডায়মন্ড পার্ক হত্যা রহস্যের কিনারা করতে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গড়ছে পুলিস। ইতিমধ্যেই ডেপুটি কমিশনার (সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশন) রাহুল দে-র কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি জমা পড়েছে।
২৩ জানুয়ারি হরিদেবপুর থানা এলাকার ডায়মন্ড পার্কের ‘এ’ ব্লকের একটি বাড়ির একতলায় গৃহবধূ ছায়া সর্দারের (৩২) মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের গলা কাটা ছিল। কাটারি জাতীয় কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বধূর গলা কাটা হয় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করেন তদন্তকারীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, বছর দু’য়েক আগে কার্তিক দাসের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ছায়ার। দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। কার্তিকের চোখের সমস্যা রয়েছে। সে কারণে বিয়ের এক বছরের মাথাতেই আলাদা থাকতে শুরু করেন ছায়া এবং পরকীয়া সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। ১৭ জানুয়ারি সেই যুবকের সঙ্গে ডায়মন্ড পার্কের বাড়ির একতলার ঘরে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। ওই যুবককে স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন ছায়া। স্ত্রীর নতুন সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ডায়মন্ড পার্কের বাড়িতে এসে বধূকে বেঁধে গলা কেটে খুন করে চম্পট দেয় কার্তিক।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করে পুলিস। কিন্তু, যুবককে পাকড়াও করতে ‘ধাক্কা’ খাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, যুবকের কোনও মোবাইল ফোন নেই। ফলে কার্তিকের লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, আততায়ীর সাতকুলে কোনও আত্মীয় নেই। নেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও। ছায়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকেই ভবঘুরে জীবন কাটাত সে। তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের পর শহরে কিংবা শহরের বাইরে কোথাও সেই ভবঘুরে জীবনেই ফিরে গিয়েছে কার্তিক। ফলে কোনও প্রযুক্তি ছাড়া কার্তিককে কীভাবে পাকড়াও করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে ঘুম উড়েছে তদন্তকারীদের।
সূত্রের খবর, সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশনের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, হরিদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, একজন সাব ইনসপেক্টর, একজন মহিলা সাব ইনসপেক্টর ও দু’জন কনস্টেবলকে নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। ডিসির অনুমতি পেলেই তদন্তের কাজ শুরু করা হবে। পুলিসের হাতে ক্লু বলতে একটাই— সিসি ক্যামেরা ফুটেজ। সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ডায়মন্ড পার্ক থেকে হাওড়াগামী একটি বাসে উঠেছিল কার্তিক। তারপর সে নামল কোথায়? তা খোঁজাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।