Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাতভর তল্লাশি চালাল পুলিশ, গিরিশ পার্ক কাণ্ডে ধৃত আরও ৫

মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি ভাঙচুর ও গিরিশ পার্ক অঞ্চলে তাণ্ডবের ঘটনায় অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে শনিবার রাতভর তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশ।

রাতভর তল্লাশি চালাল পুলিশ, গিরিশ পার্ক কাণ্ডে ধৃত আরও ৫
  • ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি ভাঙচুর ও গিরিশ পার্ক অঞ্চলে তাণ্ডবের ঘটনায় অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে শনিবার রাতভর তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চিহ্নিত আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার লালবাজারের তরফে জানানো হয়, গিরিশ পার্কে ধুন্ধুমার কাণ্ডে গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে ৭ জনই সক্রিয় বিজেপি কর্মী। মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালানোয় অভিযুক্ত মূল ইন্ধনকারী চরণজিৎ সিং। তিনি বরানগরের বাসিন্দা। সেখানকারই এক বিজেপি নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চরণজিৎ। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আরও ৫ জন বিজেপি কর্মী শনিবার ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে পাকড়াও করেছে পুলিশ। 

Advertisement

রবিবার ন’জন ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বরে বিক্ষোভের আগাম আশঙ্কা করে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করে পুলিশ। গার্ডরেল দিয়ে আদালতের ভিতরে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দুপুর থেকে সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির কয়েকজন নেতা-কর্মী। বেলা ২টো নাগাদ ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়। গার্ডরেলে ঘিরে রাখা পৃথক চ্যানেল দিয়ে তাঁদের এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকার পক্ষের দাবি, বাসে চেপে ঘটনাস্থলে আসে অভিযুক্তরা। বাসেই মজুত ছিল লাঠি, কাচের বোতল। নেপথ্যে ছিল প্ররোচনা। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে সওয়াল করেন সরকারপক্ষের আইনজীবী। পালটা অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত অভিযোগ করা হচ্ছে। বিজেপি নেতাকর্মীদের উপর বরং হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। তাতে কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহতও হয়েছেন। অথচ বিজেপি কর্মীদেরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক ১৯ মার্চ পর্যন্ত অভিযুক্তদের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। এই খবর চাউর হতেই বরানগর থানার সামনে পথ অবরোধ করে বিজেপি নেতৃত্ব।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনিবার রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে চরণজিৎ সহ প্রত্যেকেই বরানগরের বাসিন্দা। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ফুটেজ থেকে চিহ্নিত আরও পাঁচজনের নাম, পরিচয় জানতে পারেন তদন্তকারীরা। ভোররাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, সম্পত্তি ভাঙচুর, অনুমতি ছাড়া বাড়িতে ঢোকা সহ একাধিক অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ। ধৃতদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ডিটেইলস থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান তদন্তকারীরা। সেখানে দেখা যায়, বরানগরের এক বিজেপি নেতার সঙ্গে সভার আগের দু’দিন নিয়মিত কথা হয়েছে অভিযুক্তদের। তাহলে কি সেই নেতার ইন্ধনেই হামলা? খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বিজেপির দাবি, মন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে লাগাতার ইট ছোড়া হয়েছে। দলের কর্মীরা নিজেদের রক্ষা করতে পাটকেল মেরেছে। তাহলে পরিকল্পিত হামলা কীভাবে হল? 
লালবাজার জানিয়েছে, শনিবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলের তরফেই থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতে এই ঘটনায় আরও দু’টি মামলা রুজু হয়েছে। হামলার ঘটনায় দু’জন অফিসার ইন-চার্জ সহ ৮ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছিলেন। রাতভর চিকিৎসার পর ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি দু’জন এখনও চিকিৎসাধীন। তাঁদের মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ