নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এন্টালির ফিলিপস মোড়ে সোমবার ভরদুপুরে ফরেক্স সংস্থার দু’কোটি ৬৬ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিস। ধৃতরা হল সঞ্জীব দাস ওরফে বোচা (৩৯), মহম্মদ সরফরাজ ওরফে সোনু (২৫) এবং ঋজু হাজরা (২৭)। ধৃত ঋজু ওই ফরেক্স সংস্থার কর্মী। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি।
লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে, এই ঘটনায় আরও অন্তত তিন-চারজন জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের পাশাপাশি খোয়া যাওয়া টাকার খোঁজে একাধিক জায়গায় আভিযান চালাচ্ছে লালবাজার। কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ‘এই মামলার তদন্তভার লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখার গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
কীভাবে এই ডাকাতির কিনারা করল কলকাতা পুলিস? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছেন, প্রথমত, সুনির্দিষ্ট না হলেও, ডাকাতি দমন শাখার এক গোয়েন্দার কাছে সোর্স মারফত আগাম খবর ছিল, ‘এন্টালির কয়েকজন দুষ্কৃতীরা শহরে টাকা লুট বা ডাকাতি করতে পারে।’ উল্লেখ্য, ধৃত সরফরাজ ওরফে সোনু অতীতে লালবাজারের ওয়াচ এবং ছিনতাই দমন শাখার গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, দলটি পেশাদার না হওয়ায়, ডাকাতির কাঁচা চিত্রনাট্যে একাধিক ফাঁক ফোকড় ছিল। যা গোয়েন্দাদের কাজকে সহজ করে দিয়েছে। উদাহরণ, হিসেবে লালবাজার বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ফিলিপস মোড়ে ট্যাক্সির গতি কিছুটা শ্লথ হতেই দুই দুষ্কৃতী দু’দিক থেকে ট্যাক্সির পেছনের দরজা খুলে ওঠে বসে পড়েন। তেমন প্রতিবাদ –প্রতিরোধ গোয়েন্দাদের নজরে আসেনি। যা দেখে প্রথম সন্দেহ হয় তাঁদের। গোয়েন্দাদের দাবি, তৃতীয়ত, ধৃত ফরেক্স সংস্থার কর্মী ঋজু ডাকাতির সময় কিন্তু ট্যাক্সিতে ছিলেন না। সংস্থার অফিসে ছিলেন। তিনি দুষ্কৃতীদলের ‘টিপার’ হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে সরফরাজ ওরফে সোনুর আগে থেকেই পরিচয় ছিল।
অন্যদিকে, ফিলিপস মোড় থেকে দুষ্কৃতীরা ট্যাক্সিটিকে আনন্দ পালিত হয়ে কামারডাঙার সরু লেনে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন দু’-তিনজনের একটি দল। তারাই ট্যাক্সির ডিকি খুলে টাকা নিয়ে এলাকা ছাড়ে। পাশাপাশি যাওয়ার আগে ফরেক্স সংস্থার দুই কর্মীকে শাসিয়ে যায়, ‘এই কথা কাউকে জানালে জানে মেরে দেব!’ ঘটনার পর ট্যাক্সিতে থাকা ফরেক্স সংস্থার দুই কর্মী মালিককে ফোন করে ডাকাতির কথা জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় এন্টালি থানায় অভিযোগও জানান। ওই দুই কর্মীকে আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিলেন ডাকাতি দমন শাখা এবং এন্টালি থানার টিম। ধৃত এই তিনজনকে মঙ্গলবার দুপুরে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে, ১৯ মে পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।