সোহম কর, কলকাতা: ডেকার্স লেন। এই দু’টি শব্দ উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সারি সারি খাবারের দোকান। শত শত মানুষ সেখানে দাঁড়িয়ে নিত্যদিনের পেটপুজো করে চলেছেন। আর ইতিউতি ভ্লগারদের ভিড়। অনেকে আবার এই ডেকার্স লেনকে ‘ফুড স্ট্রিট’ নাম দিয়ে ফেলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেরায় এই এলাকার ভিডিও। কিন্তু এই জমজমাট রাস্তার গায়ে মুখ লুকিয়েছে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাহিনী। এই পৃথিবী ছেড়ে দেওয়ার আগে তিনি শেষবার এই রাস্তা দিয়েই পৌঁছেছিলেন যাদবপুরের টিবি হাসপাতালে। আজ সেসব স্মৃতি ইতিহাসের পাতাতেই মুখ গুঁজেছে।
মাত্র ২১ বছর পৃথিবীতে থাকা এই প্রতিভাবান কিশোর আজ বেঁচে থাকলে, তাঁর বয়স হতো ১০০। ওই ডেকার্স লেনে সুকান্তর যাতায়াত লেগেই থাকত। সেখানেই ছিল ‘কিশোর সভা’র দপ্তর। সেখানেই এককালে কমিউনিস্ট পার্টির দপ্তরও ছিল। কাজকর্ম করতে করতেই আচমকা রোগে পড়লেন সুকান্ত। তাঁর এই রোগে পড়ার কথা জানাজানি হলে সুকান্তর চিকিত্সার দায়িত্ব পড়েছিল সুনীলকুমার বসুর উপর। সুকান্তর জ্যেঠতুতো দাদা রাখাল ভট্টাচার্য পূর্ব কলকাতা থেকে সুকান্তকে শ্যামবাজারের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিশোর কবিকে চিকিত্সা করতেন তাপসকুমার বসু। মুজফফর আহমেদ ‘সুকান্ত বিচিত্রা’ বইতে তাঁর একটি লেখায় লিখছেন, ‘অল্প চেষ্টায় যাদবপুর টিউবারকিউলোসিস হসপিটালে ক্যাবিনও পাওয়া গেল। সেখানেই ভর্তি করানো হলো সুকান্তকে।’ তবে হাসপাতালে যাওয়ার পর অসুখটা বাড়তেই থাকল। বাড়াবাড়ির খবর পেয়ে এক সকালে রাখাল ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে যাদবপুরের হাসপাতালে পৌঁছে যান মুজফফর আহমেদ। কেবিনে প্রবেশ করতেই তাঁরা দেখেন সুকান্ত আর নেই।
মুজফফর আহমেদ স্মৃতিচারনায় লিখেছেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তাঁর গাড়ি ডেকার্স লেনের ভিতর দিয়ে গিয়েছিল। আমরা গেটে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সুকান্ত অনেকক্ষণ আমার হাত চেপে ধরে রাখলেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন আর যদি দেখা না হয়।’