গ্রামে মেলা বসেছে। চারিদিকে কোলাহল, প্রচুর মানুষের ভিড়। সবাই আনন্দ করছে। এরই মধ্যে হঠাৎ খবর আসে, বটকেষ্টকে বাসস্ট্যান্ডে দেখা গিয়েছে। দাবানলের মতো সে খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম জুড়ে। এই খবরে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা গ্রামের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষগুলো। যারা গ্রামের দরিদ্র অসহায় সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে গড়ে তুলেছে নিজেদের সাম্রাজ্য। মাঙ্গলিকের নবতম নাট্যপ্রযোজনা ‘খুড়োর কিস্তিমাত’-এর কাহিনি এই পথেই এগিয়েছে। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কাহিনি অবলম্বনে নাটকটি রচনা করেছেন সৌম্য বিশ্বাস। সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল অ্যাকাডেমিতে। নির্দেশনায় ছিলেন সমীর বিশ্বাস।
নাটক যত এগতে থাকে ক্রমশ জানা যায়, এই বটকেষ্ট আগেই মারা গিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ছেলে ঘনশ্যাম নিয়ম মেনে পারলৌকিক ক্রিয়াও সম্পন্ন করেছে। তাই বটাখুড়োর যে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে গ্রামের মানুষের কোনও সন্দেহ নেই।
কিন্তু তার মৃত্যুর একমাস বাদে তাকে গ্রামে দেখে সকলের মনে হয়, বটাখুড়োর প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রাম জুড়ে। এই সব ঘটনা নাটকে উঠে আসে কৌতুকের আশ্রয়ে। যা ছিল দর্শকদের কাছে বাড়তি পাওনা।
জীবিত মানুষ যে কাজ করতে পারে না, সে কাজ করতে সক্ষম হয় ভূতরূপী বটকেষ্ট। দুষ্টু লোকেরা ভয় পেয়ে ফিরিয়ে দেয় গ্রামের মানুষের সম্পত্তি।
বটকেষ্টর ভূমিকায় সমীর বিশ্বাসের অনবদ্য অভিনয় মন ছুঁয়ে যায় দর্শকদের। ঘনশ্যামের চরিত্রে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয়ও সুন্দর। এছাড়া সব্যসাচী দাশগুপ্ত, দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, অসীম বোস, সৌম্য বিশ্বাস, উজ্জ্বল বিশ্বাস, সঞ্চিতা চৌধুরী, মিতা মুখোপাধ্যায়, সুনন্দা সাহার অভিনয় প্রশংসার দাবি রাখে। বাবলু সরকারের আলো ও শম্ভুনাথের আবহ এই নাটকের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছে।
পিয়ালী দাস