শিলং: পুলিসের কাছে অপরাধের স্বীকারোক্তির মধ্যেই স্বামী রাজাকে খুনে সোনমের ষড়যন্ত্র নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে চলে আসছে। মেঘালয় পুলিস জানাচ্ছে, প্রেমিক রাজ ও সোনম মিলে রাজাকে খুনের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা ভেস্তে যায়। এর পরেই ‘প্ল্যান বি’ কাজে লাগায় তারা। সেই মোতাবেক খুন করা হয় রাজা রঘুবংশীকে।
পুলিস সূত্রে খবর, ২২ মে শিলং পৌঁছেছিল সোনম। প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল, ওইদিনই রাজাকে খুন করা হবে। ঠিক কোথায় যেতে হবে, ভাড়াটে খুনিদের তা জানানোও ছিল। প্রথমে পরিকল্পনা হয়েছিল, স্বামীকে নিয়ে ট্রেকে যাবে সোনম। পাহাড়ে ওঠার পর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে সে সেলফি তোলার আবদার করবে স্বামীর কাছে। সেই সুযোগে ভাড়াটে খুনিরা এসে ধাক্কা দিয়ে রাজাকে খাদে ফেলে দেবে। গোটা পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে দেখলে দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। কিন্তু শিলংয়ে প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ২২ মে’র ওই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বৃষ্টির কারণে স্বামীকে নিয়ে ট্রেকে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে ‘প্ল্যান বি’তে কাজে লাগাতে হয় সোনম ও তার প্রেমিক রাজকে। ২২ মে’র পরিবর্তে পরের দিন ২৩ মে স্বামী রাজাকে নিয়ে ট্রেকে যায় সোনম। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঝপথে চলে আসে ভাড়াটে খুনিরাও। সোনমের নির্দেশে ভাড়াটে খুনিদের মধ্যে বিশাল নামে এক তরুণ ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে পিছন থেকে ও পরে সামনে থেকে রাজাকে আঘাত করে। এরপর ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে নিয়েই সোনম পাহাড়ের উপর থেকে রাজাকে খাদে ফেলে দেয়।
শিলং থেকে পালানোর পর শেষ পর্যন্ত সোনমের হদিশ মেলে উত্তরপ্রদেশে গাজিপুরের একটি ধাবায়। পুলিস জানতে পেরেছে, অপরাধ ধামাচাপা দিতে ধাবার মালিক সাহিলের কাছেও আকাশকুসুম গল্প ফেঁদেছিল ওই তরুণী। বলেছিল, ‘শিলংয়ে হানিমুনের সময় একদল দুষ্কৃতী আমাদের পিছু নেয়। ওরা আমার গয়না ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়ে মৃত্যু হয়েছে স্বামী রাজার।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সাজানো গল্পেই কাজ হল না। পুলিসের জেরার মুখে পড়ে অবশেষে খুনের কথা স্বীকার করতে হল সোনমকে।
এর মধ্যেই সামনে এসেছে অপর একটি তথ্য। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, সোনম ও রাজা দু’জনেই মাঙ্গলিক। সেজন্য বিয়ের সময় তাদের বেশ কিছু নিয়মও পালন করতে হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের মুখ্যমুখি হয়ে নিহত রাজার মা উমা রঘুবংশী জানান, ‘মাঙ্গলিক’ সোনম সংস্কারের বশে রাজাকে খুন করানোর ছক কষেছিল। যাতে ভবিষ্যতে রাজের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবনে কোনও বাধা-বিপত্তি না আসে। এর পরেই সোনমের মাঙ্গলিক হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিসের কাছে আর্জি জানায় রাজার পরিবার।