Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলার মানুষ ফের মমতাজিকেই মুখ্যমন্ত্রী করবেন: তেজস্বী যাদব, রবিবারের হেভিওয়েট প্রচারে জমজমাট হুগলি

হেভিওয়েট সভা থেকে হেভিওয়েট পদযাত্রা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ রবিবার নানাভাবে প্রচার করলেন তৃণমূল, বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেসের প্রার্থীরা।

বাংলার মানুষ ফের মমতাজিকেই  মুখ্যমন্ত্রী করবেন: তেজস্বী যাদব, রবিবারের হেভিওয়েট প্রচারে জমজমাট হুগলি
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হেভিওয়েট সভা থেকে হেভিওয়েট পদযাত্রা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ রবিবার নানাভাবে প্রচার করলেন তৃণমূল, বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেসের প্রার্থীরা। মূলত, হেভিওয়েট প্রচারের নিরিখে নজর কেড়েছে তৃণমূল ও বামেরা। শেষ রবিবারের প্রচারে হুগলিতে এসেছিলেন বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে চাঁপদানিতে প্রচার করেন। সেখানে তিনি বিজেপিকে তেড়ে আক্রমণ করেছেন। তেজস্বী বলেন, বিজেপি খোয়াব দেখছে। বাংলা থেকে মমতাজিকে কেউ সরাতে পারবে না। ২০২৯ সালে দিল্লি থেকে আমরা মোদিকে সরাব। এদিনই সিপিএমের রাজ্যনেত্রী তথা উত্তরপাড়ার প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন সিপিআই (এম-এল)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনিও এদিন বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছেন।

Advertisement

গোটা জেলাজুড়ে এদিন একগুচ্ছ পথসভা, ছোটো সভার মাধ্যমে প্রচার করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, মিছিলের মাধ্যমে শেষ রবিবারের প্রচারে জোর দিয়েছিল সিপিএম। সেই তুলনায় বিজেপির প্রচার ছিল জৌলুসহীন। তবে বাড়ি বাড়ি প্রচারের কাজ করেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। পদ্মনেতাদের দাবি, আজ, সোমবার নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন অমিত শাহ রোড শো করবেন। রবিবার সেই মেগাপ্রচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 
এদিন প্রচারের মুখ্য আকর্ষণ ছিলেন বিহারের যাদব নেতা তেজস্বী। চাঁপদানির জোড়ামন্দির ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী অরিন্দম গুঁই঩নের হয়ে তিনি জনসভা করেন। ভিড়ে ঠাসা মাঠে এদিন তেজস্বী বলেন, বিজেপি সব জায়গায় গিয়ে বলছে, অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একজনকেও খুঁজে বের করতে পারেনি। মানুষকে সন্ত্রস্ত করে ভোট জোগাড়ের রাজনীতি করছেন মোদি-শাহ। বাংলায় এই ‘তানাশাহি’ চলবে না। বাংলার মানুষ বিজেপিকে এবার সমূলে বিসর্জন দেবে। বাংলাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন মমতাজি। বাংলার মানুষ তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করবেন। তিনি দাবি করেছেন, গত কয়েকদিন তিনি বারবার বাংলায় এসেছেন। জনমত বুঝতে তাঁর ভুল হয়নি। তেজস্বী এদিন বলেন, খালি হিন্দু-মুসলমান বিভেদ তৈরি, ধর্মের নামে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে নষ্ট করার কাজ করছে বিজেপি। তারা দেশকে বহুভাগে ভেঙে দিতে চাইছে। আর মানুষের সমর্থন পাবে না যখন বুঝতে পারছে, তখন ইডি-সিবিআই নামাচ্ছে। চাঁপদানির হিন্দিভাষী বলয়ে এদিন প্রচারে তুফান তুলে তেজস্বী ‘বিজেপিকে তাড়ানোর’ ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, এবার দিদিকে মুখ্যমন্ত্রী করে দিন। ২০২৯ সালে আমরা মোদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী করে দেব। উত্তরপাড়ায় প্রচারে এসে সিপিআই (এম-এল)-এর সর্বভারতীয় নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি বিভেদের রাজনীতি করে মানুষের মূল দাবিগুলিকে গুলিয়ে দিতে চাইছে।
বিজেপির প্রার্থীরা এদিন ছোটোখাটো জমায়েত ও বাড়ি বাড়ি প্রচারের কাজ করেছেন। চন্দননগর ও চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীরা সোমবারের রোড শো নিয়ে প্রচার সেরেছেন। অন্যদিকে, জেলাজুড়ে তৃণমূল এদিন অনেকগুলি ছোটো ছোটো সভা, পথসভা করেছে। সব মিলিয়ে প্রচারের শেষ রবিবার সরগরম ছিল গঙ্গাপাড়ের জনপদ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ