নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাইপলাইনের কাজ চলায় ছ’মাস ধরে বন্ধ রাস্তা। পুলিসের গার্ডরেলে লেখা ‘ডাইভারসন’। সেসব বিধি উপেক্ষা করেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি ঢুকে পড়ল ঠাকুরপুকুর বাজারের ভিতরে। রবিবারের সকালে সবাই তখন ব্যাগ ভর্তি করে মাছ-মাংস, সব্জি কিনতে ব্যস্ত। উদ্দাম গতিতে একের পর এক পথচারীকে ধাক্কা মারল বেপরোয়া গাড়িটি। শেষমেশ দু’টি স্কুটারে ধাক্কা মেরে লক হয়ে যায় গাড়ির চাকা। ভরা বাজারে তখন হুলস্থুল কাণ্ড। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে কাতরাচ্ছেন সাত পথচারী। টলতে টলতে চালকের আসন থেকে নেমে ছুটতে শুরু করলেন বাংলা টেলি জগতের এক পরিচালক। তখনই ক্ষোভ গিয়ে পড়ে গাড়িটির উপর। ভাঙচুর চালান সাধারণ মানুষ।
ঠাকুরপুকুর বাজারে সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক পথচারীর। মৃতের নাম আমিনুল রহমান (৬০)। ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা তিনি। এছাড়া দুর্ঘটনার জেরে আরও আটজন জখম হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয় তাঁকে। বাকিদের বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিস। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে গাড়ির চালক তথা ধারাবাহিকের পরিচালক সিদ্ধান্ত দাস ওরফে ভিক্টোকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিস। আটক করা হয় চালকের পিছনের আসনে থাকা শ্রিয়া বসুকে। তিনি একটি বাংলা চ্যানেলের কার্যনির্বাহী প্রযোজক। গাড়িটিতে ছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন ওরফে ঋ। প্রত্যেকেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি পুলিসের। লালবাজার জানিয়েছে, আজ সোমবার ধৃত পরিচালককে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীর জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ধূসর রঙের একটি গাড়িকে খুব দ্রুত গতিতে আসতে দেখা যায়। চোখের পলকে একের পর এক ব্যক্তিকে ধাক্কা মারতে শুরু করে সেটি। সমীর হাজরা নামে এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, রবিবার বাজারে এমনিতেই ভিড় থাকে। সেকারণে অনেক বেশি মানুষ আহত হন। গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও পিছনের আসনে ছিলেন প্রযোজক ও অভিনেত্রী। তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এলাকাবাসী। জনরোষ গিয়ে পড়ে গাড়ির উপর। এলোপাথাড়ি ইট, রডের আঘাত গিয়ে পড়ে গাড়ির উপর। ভেঙে যায় সামনের কাচ, পিছনের দরজা। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঠাকুরপুকুর ট্রাফিক গার্ড ও ঠাকুরপুকুর থানার পুলিস। প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রযোজক শ্রিয়াকে। মদের ঘোরে থাকায় গাড়িতে ওঠার সময় ভ্যানের পাদানি থেকে পড়ে যান তিনি। জনরোষের হাত থেকে কোনওভাবে তাঁদের উদ্ধার করে পুলিস। এরপরেই থানায় ডেকে পাঠানো হয় পরিচালক ভিক্টোকে। সেখানেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিনই তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নেশার ঘোর কাটলে প্রযোজক ও অভিনেত্রীকে ছেড়ে দেয় ঠাকুরপুকুর থানা। উল্লেখ্য, অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিক বলেন, ‘শনিবার সারারাত পার্টি চলে। সেই পার্টিতে আমার সঙ্গে উপস্থিত ছিল ঋ, শ্রিয়া, ভিক্টো। সকালে আমি শ্যুটিংয়ে চলে যাই। ফোনে খবর পাই ভিক্টোদের গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ এই প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রযোজক ও অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁরা ফোন ধরেননি।