দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় যাবতীয় দায় রেল যাত্রীদের উপরই চাপিয়ে দিল রেলমন্ত্রক। সব দোষ সাধারণ যাত্রীদের। ঘটনার রাতে নিউদিল্লি স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছিল ঠিকই। কিন্তু সেই ভিড় সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো রেলের কাছে ছিল। ফুট ওভার ব্রিজ (এফওবি) দিয়ে যাতায়াতকারী অধিকাংশ যাত্রীর মাথায় ছিল বড় বড় মালপত্র, মোট। একজন যাত্রীর মাথা থেকে তা পড়ে যেতেই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় শুক্রবার সংসদে ঠিক এই তথ্যই দিয়েছে রেলমন্ত্রক। রেল বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এই প্রথম সরকারিভাবে তদন্তকারী কমিটির পেশ করা রিপোর্টের ‘ফাইন্ডিংস’ সংক্রান্ত উল্লেখ করল মোদি সরকার। স্বাভাবিকভাবেই একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিন রাজ্যসভায় নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) সাংসদ রামজিলাল সুমন। তারই জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব লিখিতভাবে রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে হাই প্রোফাইল নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় বহু রেল যাত্রী হতাহত হন। তাঁদের অধিকাংশই মহাকুম্ভে শামিল হতে প্রয়াগরাজ যাচ্ছিলেন। এদিন রেলমন্ত্রী রাজ্যসভায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন, কীভাবে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা ইতিমধ্যেই রিপোর্ট পেশ করেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ১৫ মিনিটের পর থেকে ১৪ এবং ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন ফুট ওভার ব্রিজে যাত্রী ভিড় ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। কোনও একজন যাত্রীর মাথা থেকে পাহাড়প্রমাণ মালপত্র পড়ে যাওয়ার পরেই ফুট ওভার ব্রিজ এবং সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। রেল যাত্রীরা একে অন্যের উপর পড়ে যান। রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার রাজ্যসভায় লিখিতভাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ওই দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই মৃতের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর অন্যান্য স্টেশনেও ভিড় মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও যাত্রীদের ভিড় কেন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল, সেই ব্যাপারে লিখিত জবাবে কোনও আলোকপাত করেননি বৈষ্ণব। ওই দুর্ঘটনার পরেই উঠে এসেছিল, ১৫ ফেব্রুয়ারি নিউদিল্লি স্টেশনে নির্ধারিত সীমার থেকেও বেশি পরিমাণে অসংরক্ষিত টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এর ফলেই যাত্রী ভিড় মাত্রাছাড়া হয়ে যায়। নির্দিষ্ট করে এই তত্ত্বের উল্লেখও রেলমন্ত্রীর জবাবে করা হয়নি। অন্যদিকে, এদিন রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা সংক্রান্ত মোট ৮২টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। ২০০৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত তিনটি অভিযোগ দায়ের করেছে এনআইএ।