


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১০০ দিনের কাজ চালু করা নিয়ে সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে বড়ো জয় পেয়েছে বাংলা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা এই প্রকল্প বাংলায় ফের আরম্ভ হওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু রাজ্যের ২ কোটি জবকার্ড হোল্ডারের ন্যায্য প্রাপ্য তো এখনও বকেয়া পড়ে। তা আদায় করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার একসঙ্গে শুরু হল রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই। বকেয়া টাকার দাবিতে নতুন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও বাংলার প্রান্তিক মানুষের টাকা না দিলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা এবং বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
১০০ দিনের কাজের বকেয়া মজুরি সহ একাধিক দাবিতে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল আগেই। সেই মামলাগুলি এখনও বিচারাধীন। এদিন এই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্য। মামলাগুলির শুনানি হবে আগামী ৭ নভেম্বর। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুমকি, ‘আদালত নির্দেশ দিয়েছে সুতরাং (কেন্দ্রকে) কাজ শুরু করতেই হবে। আদালতের নির্দেশ যদি অমান্য হয় তাহলে অবমাননার মামলা হবে। আর তার সঙ্গে চলবে আমাদের রাজনৈতিক লড়াই। এর আগে ১০০ দিনের কাজের দাবিতে দিল্লিতে আমাদের আন্দোলন আসলে সিনেমার ট্রেলার ছিল। আবার যদি টাকা না দেয় তাহলে পুরো সিনেমা দেখাবে বাংলার মানুষ।’
২০২২ সালে ১০০ দিনের কজের অর্থ বন্ধ করার আগে পর্য়ন্ত এই খাতে কেন্দ্রের কাছে বাংলার বকেয়া ছিল ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। তারপর থেকে স্বাভাবিক ছন্দে বাংলার জন্য লেবার বাজেট বরাদ্দ হলে আরও ৫০ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা পাওয়ার কথা। যদিও আদালত কেন্দ্রকে কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেও রাজ্যের বকেয়া মেটানো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কাজ শুরুর আবেদন জানিয়ে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মূল মামলাকারী সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতিও। এমনকি বকেয়া মজুরি মেটানোর পাশাপাশি এতদিন টাকা বন্ধ করে রাখার জন্য ০.০৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার আর্জিও জানায়।
গত ১ অগস্ট থেকে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু সোমবার কেন্দ্রের সেই আবেদন খারিজ হওয়াকে ‘দুই গালে চড় খাওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন অভিষেক। একইসঙ্গে স্রেফ রাজনৈতিক কারণেই যে বাংলার টাকা আটকে রাখা হয়েছে, পরিসংখ্যান দিয়ে সেকথা তুলে ধরেছে তৃণমূল। এদিন সকালে বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলকে পাশে বসিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘১০০ দিনের কাজে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য উত্তরপ্রদেশে আর্থিক গড়মিলের অঙ্কটা হল ৪৮ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। বিহারে তা ১৭ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা আর মহারাষ্ট্রে ১৫ কোটি ২ লক্ষ টাকা। সেখানে বাংলার ১৯টি জেলায় মাত্র ৬ কোটি ৩ লক্ষ টাকা প্রথাগতভাবে খরচ হয়নি বলে কেন্দ্র অভিযোগ করেছিল। এই টাকাও রাজ্য সরকার উদ্ধার করে কেন্দ্রের কোষাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।’