Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এলাকায় কাজ হলেই কাটমানি দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পঞ্চায়েত সদস্য

এলাকায় কাজ হলেই কাটমানি দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পঞ্চায়েত সদস্য
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পঞ্চায়েত থেকে কাজ বেরলেই কাটমানি চাইছেন বিজেপি নেতারা। এই অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিলেন রামপুরহাট ১ ব্লকের খরুন পঞ্চায়েতের সদস্য। কিছুদিন আগে এই ব্লকের একমাত্র হাতছাড়া হওয়া কাষ্ঠগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ তিন সদস্যা দলে মহিলাদের সম্মান নেই অভিযোগ তুলে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। দলীয় নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বিজেপি ছাড়ার হিড়িকে পদ্ম শিবিরে অস্বস্তি বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।  

Advertisement

গত নির্বাচনে ১৩ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে তৃণমূল সাতটি ও বিজেপি পায় ছ’টি আসন। তার পর থেকে প্রায়ই শাসকদলের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভ দেখিয়ে এসেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, বিজেপির টিকিটে জয়ী সদস্যদের এলাকায় কোনও কাজ দেওয়া হচ্ছে না। এদিন সেই সব অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি সদস্য দিলীপ দাস তৃণমূলে যোগ দিলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বেলিয়া গ্রামের ১৬৬ নম্বর সংসদ থেকে তৃণমূল প্রার্থীকে ১৭০ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন দিলীপ। এদিন রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে এসে তিনি তৃণমূলে যোগ দিলেন। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলের ব্লক সভাপতি  নীহার মুখোপাধ্যায়, এই অঞ্চলের সভাপতি মহাদেব সাহা প্রমুখ। আশিসবাবু বলেন, নিজের এলাকার উন্নয়নের তাগিদেই এই সদস্য সহ ৩০টি পরিবার তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ওই এলাকায় তৃণমূলের শক্তি আরও বাড়ল। 
এদিকে দলবদল প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, পঞ্চায়েত থেকে এই এলাকার উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ করলেই বিজেপি নেতারা চলে আসছে। বলছে কাজের টাকার ভাগ লাগবে। উন্নয়নের অর্থ যদি ওরা খায়, তাহলে কাজ করব কীভাবে! বুধবার রাত আটটায় জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা আমার বাড়ি এসেছিলেন। দলবদল না করার জন্য অনেক বোঝান। কিন্তু আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, বিজেপিতে থাকা আর সম্ভব নয়। আর ওরা তো বিজেপি দলটাকে ধর্মের পার্টিতে পরিণত করেছে। আমরা এখানে হিন্দু মুসলিম মিলেমিশে থাকি। কেন এই পরিবেশ নষ্ট করতে যাব। তারাপীঠ মহাশ্মশান এই পঞ্চায়েতেরই অর্ন্তগত। সেখানে সরকারি কাজে বিজেপির বাধা প্রসঙ্গেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। দিলীপ বলেন, আমিও বৈষ্ণব। ওখানে আমাদের সমাধি নষ্ট করা হচ্ছে না। রাজনীতির কারণেই বাধা দিচ্ছে বিজেপি। যদিও বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওই সদস্য যদি দলকে জানাতেন, তাহলে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আসলে ওই সদস্য নিজের স্বার্থে টাকা পয়সা ইনকামের আশায় তৃণমূলে গিয়েছেন। বিরোধী দলে থেকে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। 
উল্লেখ্য, এর আগে কাষ্টগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ তিন সদস্যা অনুগামীদের নিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই পঞ্চায়েতের হস্তিকাঁদা গ্রামের বিজেপি নেতারা দলবল নিয়ে জোড়া ফুল শিবিরে নাম লেখান। স্বভাবতই বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বিজেপি ছাড়ার হিড়িক বাড়ছে রামপুরহাটে। গেরুয়া শিবিরের কাছে এটা বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ