নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও পরবর্তী পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল। পাকিস্তানের জঙ্গি-যোগ ও অপারেশন সিন্দুরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে ভারতের প্রতিনিধি দলের সফর এখনও চলছে। অথচ এরমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সন্ত্রাস দমন কমিটির কো চেয়ার করা হল ‘জঙ্গিদের আঁতুড় ঘর’ পাকিস্তানকে। তালিবানের উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কমিটিরও নেতৃত্বে থাকবে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, আইএমএফের পর এবার দেউলিয়া পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণ ৮০ কোটি মার্কিন ডলার (ছ’হাজার কোটি টাকা) ঋণ মঞ্জুর করল এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি)। ভারতের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও এই ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। ঘটনাক্রমকে নয়াদিল্লির কূটনীতি ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থ জোগানে অভিযুক্ত পাকিস্তান দীর্ঘদিন সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নজরদার সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) ধূসর তালিকায় ছিল। সেই তালিকায় পাকিস্তানের নাম ফের তুলতে ভারত জোর তৎপরতা শুরু করতে চলেছে বলে খবর। এরমধ্যেই ২০২৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসদমন কমিটিতে রাশিয়া ও ফ্রান্সের সঙ্গে কো চেয়ারের দায়িত্ব পাচ্ছে সেই পাকিস্তানই। কমিটির চেয়ার হয়েছে আলজেরিয়া। সেইসঙ্গে তালিবানের উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কমিটির চেয়ার নিযুক্ত হয়েছে জঙ্গি মদতের ইস্যুতে কাঠগড়ায় থাকা পাকিস্তান।
পহেলগাঁও পরবর্তী পর্বে সন্ত্রাসবাদীদের মদতে পাকিস্তানের ইতিহাস তুলে ধরে ফের সরব হয়েছে ভারত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পাকিস্তানের আর্থিক সহায়তা বন্ধে পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু অপারেশন সিন্দুর পরবর্তী সঙ্ঘাতের আবহে কিছুদিন আগেই পাকিস্তানকে আট হাজার কোটি টাকার ঋণে অনুমোদন দিয়েছে আইএমএফ। এবার ভারতের অপত্তি উড়িয়ে দিয়ে একই কাজ করল এডিবি। দেউলিয়া দেশ পাকিস্তানকে ছ’ হাজার কোটি টাকা (৮০ কোটি ডলার) ঋণ মঞ্জুর করেছে তারা। সূত্রের খবর, এর পরিপ্রেক্ষিতে ঋণের অর্থ পাকিস্তান যাতে উন্নয়নের কাজেই ব্যয় করে, সেদিকে কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কারণ, নয়াদিল্লির আশঙ্কা ঋণের অর্থে সামরিক খাতে বা জঙ্গিদের মদত দিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করবে ইসলামাবাদ।