


দুশনাবে, ১ জুন: সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত নিয়ে ভারতের দিকে অভিযোগ তোলা বন্ধ করুক পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা দিয়ে এমনটাই জানাল ভারত। তাজিকিস্তানের দুশনাবেতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হিমবাহ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলছে। তাতেই পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত। সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ভারতের তরফে ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে, তা একতরফা এবং বেআইনি। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু এবং তার উপনদীগুলির জলবণ্টন করা হয়। এইভাবে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য লক্ষ লক্ষ জীবন বাজি রাখা উচিত নয়। পাকিস্তান এটা মেনে নেবে না। আমরা ভারতকে সীমা অতিক্রম করতে দেব না।’ যদিও হিমবাহ সংরক্ষণ বিষয়ক সম্মেলনে সিন্ধু চুক্তি নিয়ে কীভাবে পাকিস্তান কথা বলল তাতে তীব্র আপত্তি জানান কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
তিনি বলেন, ‘এই ফোরামের অপব্যবহার করছে পাকিস্তান। ফোরামের সঙ্গে যোগ নেই, এমন বিষয়ের উল্লেখ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাকিস্তানের অবিরত সীমান্ত-সন্ত্রাস সিন্ধু চুক্তির নিয়মগুলি কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছে। পাকিস্তান নিজেই আসলে চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এই বিষয়ে ওদের ভারতকে দোষারোপ করা বন্ধ করা উচিত।’ পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার সঙ্গে পাক যোগ রয়েছে, এই তথ্য ইসলামাবাদকে দেয় ভারত। তারপরেও পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। যার জেরে কূটনৈতিক স্তরে ভারত একাধিক পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যার মধ্যে অন্যতম সিন্ধু চুক্তি স্থগিত রাখা। তারপর থেকেই পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা ভারতকে এই বিষয়ে হুমকি দিচ্ছে, দোষারোপও করতে ছাড়ছে না। সেইভাবেই তাজিকিস্তানে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু চুক্তি নিয়ে সুর চড়াতে গিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। যার বিরুদ্ধে তোপ দেগে কঠোর জবাব দিয়েছে ভারত।