ওয়াশিংটন: পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ভারতের উপর হামলা করা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের মোকাবিলা করতেই এই হাতিয়ার গড়ে তোলে ইসলামাবাদ। পরের দিকে সেই লক্ষ্য বদলে যায়। এর নেপথ্যে ছিলেন পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী আব্দুল কাদির খান। টার্গেট - ‘ইসলামিক বম্ব’। অর্থাৎ ইরান সহ অন্য মুসলিম দেশগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য ছিল ওই বিজ্ঞানীর। যাতে মুসলিম দেশগুলি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এমনই জানালেন সিআইএ-র প্রাক্তন আধিকারিক রিচার্ড বারলো।
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিচার্ড বারলো জানিয়েছেন, ১৯৮০ সালের পরের দিকে গোপনে পারমাণবিক কার্যকলাপ চালাচ্ছিল পাকিস্তান। ১৯৯০ সালের শুরুতে নিজের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ইরানের হাতে গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ টেকনোলজি, পরমাণু অস্ত্র তৈরির নানা ব্লুপ্রিন্ট ও তথ্য তুলে দেন আব্দুল কাদির খান। এর জেরেই তেহরানের পরমাণু গবেষণা এক অন্য মাত্রা পায়। রিচার্ড বারলোর কথায়, ‘যতদূর মনে পড়ে একবার আব্দুল কাদির খান বলেছিলেন - খ্রিস্টান বোমা, ইহুদি বোমা, হিন্দু বোমা রয়েছে। এবার একটি ইসলামিক বোমা চাই। আসলে মুসলিম দেশগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে পরমাণু হাতিয়ার তৈরির এই বিশাল যজ্ঞে নেমেছিল পাকিস্তান।’ গোপনে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। শুক্রবার সেই ইস্যুতেই সরব হল বিদেশ মন্ত্রক। এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘গোপনে অবৈধভাবে পারমাণবিক কার্যকলাপ চালানো পাকিস্তানের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চোরাচালান, পাচার, রপ্তানি নিয়ম লঙ্ঘন ও নানা দেশের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করার মধ্য দিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।’