চণ্ডীগড়: পাক ড্রোন ভেঙে পড়ে বাড়িতে আগুন ধরে গিয়েছিল। এর জেরে জখম হয়েছিলেন সুখবিন্দর কউর (৫০) নামে এক মহিলা। দ্রুত তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মঙ্গলবার চিকিৎসাকালে মৃত্যু হল তাঁর। পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের এই ঘটনায় মৃত মহিলার স্বামী লখবিন্দর সিং ও ছেলে মনু সিংও জখম হয়েছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পহেলগাঁয়ে জঙ্গি হামলার জেরে পাক ভূখণ্ডে অপারেশন সিন্দুর চালায় ভারত। এই অভিযানে প্রতিবেশী দেশে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখায় গোলাগুলি চালাতে শুরু করে তারা। এর জেরে জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কয়েকজন নীরিহ গ্রামবাসীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তবে পাক হামলায় পাঞ্জাবে এই প্রথম কোনও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হল।
জানা গিয়েছে, গত ৯ মে, শুক্রবার রাতে পাকিস্তান ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলা রুখে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। কিন্তু ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সুখবিন্দরের বাড়িতে এসে পড়ে। তখন রান্নাঘরে ছিলেন সুখবিন্দর। খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমোতে যাচ্ছিলেন লখবিন্দর। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁদের বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন লেগে যায়। গুরুতর আহত হন সুখবিন্দর, তাঁর স্বামী ও ছেলে। তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন ধরে চিকিৎসা চলছিল। এদিন সকালে মৃত্যু হয় সুখবিন্দরের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিনও ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সুখবিন্দরের বাড়িতে আলো জ্বলছিল।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। মৃতের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। সরকার পাশে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সমস্ত সাহায্য করা হবে।’ সুখবিন্দরের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জীব আরোরা।