নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটে জিততে ঘনঘন আনাগোনা দিল্লির ভিভিআইপি নেতাদের। নিরাপত্তায় প্রায় প্রাণপাত রাজ্য পুলিশের। নেতারা এসে মূলত বৈঠক করছেন এবং থাকছেন নিউটাউনের দুই পাঁচতারা হোটেলে। সে হোটেল ঘিরে আঁটোসাঁটো পাহারা। ব্যারিকেড করা থাকছে হোটেল সংলগ্ন আশপাশের একাধিক রাস্তা। ফলে নেতারা যতক্ষণ থাকছেন ততক্ষণ প্রায় নাজেহাল ব্লকের বাসিন্দা এবং দোকানদাররা। এ রাস্তা গার্ড রেল দিয়ে বন্ধ করা তো ও গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষীরা দিচ্ছেন গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। নিজের আবাসনে ঢোকার মুখেও কয়েকজনকে পড়তে হচ্ছে চেকিংয়ের মুখে। সবমিলিয়ে ভোটের আগে নাস্তানাবুদ সাধারণ মানুষ।
কিছুদিন আগে যাত্রাগাছির বন্দের মোড়ে থাকা হোটেলটিতে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানে প্রবল বিক্ষোভ হয়। তার ফলে ব্যস্ত রাস্তা বিশ্ববাংলা সরণি হয়েছিল অবরুদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে জ্যামজটে আটকে পড়তে হয়েছিল যানবাহনকে। দমদম এয়ারপোর্ট যেতে গিয়ে আটকে পড়তে হয় অনেক বিমানযাত্রীকে। তাঁরা ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন। অন্যান্য যাত্রীরাও প্রবল ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি সে হোটেল ঘিরে নেতাদের গাড়ি এবং সাধারণ মানুষের গাড়ি পার্ক করা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে এই হোটেলে নেতাদের ভিড় একটু কমেছে। সেই চাপ গিয়ে পড়েছে অন্য হোটেলটির উপর। বন্দের মোড়ের বিশাল হোটেলটির সামনের অংশে কোনো আবাসন নেই। পিছনের দিকে বড়ো হাউজিং তৈরি হয়েছে। জায়গাটির নাম কদমপুকুর। সে জায়গাটি পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের অধীন। কিন্তু নিউটাউনের এনকেডিএ লাগোয়া বলে ঘন জনবসতিপূর্ণ। রাস্তার দু’দিকেই বাজার বসে। জাহানারা বিবি নামে চায়ের এক দোকানদার বলেন, ‘নেতারা এলে আমাদের ব্যবসা হয় না। দোকান খুলতেও দেয় না। আমরা গরিব মানুষ বিক্রি বন্ধ থাকলে খাব কি?’ কামালউদ্দিন মোল্লা নামে এক অটো চালক বলেন, ‘দিল্লির বড়ো নেতারা এলে অটো স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেয় না। আমাদের প্রায় না খেতে পাওয়ার দশা হয়।’ অন্য হোটেলটি রয়েছে বিশ্ববাংলা গেটের কাছে।
নিউটাউন বাস স্ট্যান্ড থেকে বিশ্ববাংলা গেটের দিকে যেতে বাঁ হাতে পড়ে দু’টি অন্য হোটেলটি। তার চারপাশজুড়ে আবাসিক এলাকা। একাধিক ছোটো দোকান। হোটেলের প্রবেশপথের সামনেই বিশ্ববাংলা সরণি। নেতাদের ঢোকা এবং বেরনোর সময় সেখানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা চলছে। ফলে যখন তখন অবধারিত যানজট। আটকে পড়ছে অ্যাম্বুল্যান্স থেকে স্কুলের বাস। নিউটাউন রেসিডেন্স ওয়েলফেয়ার ফোরামের সম্পাদক সমীর গুপ্ত বলেন, ‘ভয়ানক সমস্যা চলছে দিনের পর দিন ধরে। স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।’