নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় উৎসাহের সঙ্গে ধান বিক্রি করছেন চাষিরা। জেলার ৬০টি সিপিসি থেকে ধান কেনা শুরু হয়েছে। যার মধ্যে ৪৫ টি স্থায়ী সিপিসি ও বাকি ১৫টি মোবাইল সিপিসিতে ধান কেনা শুরু করেছে খাদ্যদপ্তর। অনলাইনে শিডিউল করে চাষিরা নিজেদের এলাকার কাছাকাছি সিপিসিতে ভিড় জমাচ্ছেন। প্রতিটি স্থায়ী সিপিসিতে দু’জন করে পারচেস অফিসার বসছেন। চাষিদের অনলাইন শিডিউল খতিয়ে দেখে তাঁদের নিয়ে আসা ধান প্রতিটি ক্যাম্পে তাঁরা ওজন করে নিচ্ছেন। ধলতা যাতে বেশি বাদ না দেওয়া হয়, তার জন্য প্রতিটি ব্লকে অফিসার ও ধান ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিভিন্ন সংস্থাকে সচেতন করা হয়েছে।
গতবার জেলায় ধান বিক্রি নিয়ে চাষিদের বড় কোনও অভিযোগ সামনে আসেনি। খাদ্যদপ্তর, জেলা পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতে কঠোরভাবে ফড়েরাজ বন্ধ করা গিয়েছিল। এবারও যাতে চাষিরা সিপিসিতে গিয়ে সরাসরি নিজেদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারেন, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ামক সৈকত চক্রবর্তী বলেন, জেলার ৪৫টি স্থায়ী ক্রয় কেন্দ্র (সিপিসি) থেকে ধান কিনছে খাদ্যদপ্তর। পাশাপাশি মোবাইল সিপিসি চাষিদের বাড়ি থেকে ধান ক্রয় করছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে এবার জেলায় ৬০টি কেন্দ্রীয় ধান ক্রয় কেন্দ্রে সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে প্রশাসন। চাষির নামে যাতে অন্য কেউ ধান বিক্রি করতে না পারে, সেই বিষয়ে আমরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছি।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার একজন চাষি সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। চাষিদের থেকে কেনা ধান সরাসরি রাইস মিল নিয়ে যাবে। রাইস মিল যাতে নির্দিষ্ট সময় ধান তুলে নেয়, সেই জন্য তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে নির্বিঘ্নে যাতে ধান ক্রয় করা যায়, তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি সিপিসিতে চাষিদের জন্য পানীয়জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা আছে। অনলাইন শিডিউল করেই চাষিরা বিক্রয় কেন্দ্রে আসছেন। ৬০টি সিপিসি ছাড়াও ১৯১টি সোসাইটি ও এফপিও ধান ক্রয় করছে।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় চাষিদের কাছ থেকে সাত লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। গতবারের তুলনায় এবার এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান বেশি কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে ২০২৫-’২৬ খরিফ মরশুমে চাষিদের ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে মুর্শিদাবাদ জেলায় নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই ধান বিক্রি শুরু হয়েছে। আগে ভাগেই জেলা প্রশাসন ও ধান কেনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলি সক্রিয় হয়। গত মরশুমে রাজ্যজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ মোট ৫৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। যার ৯২ শতাংশ চাল সরকারের গুদামে জমা পড়ে। নতুন মরশুমে আরও বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এবার রাজ্যব্যাপী ৬৭ লক্ষ টন ধান সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দপ্তর।