Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মদ্যপানে বাধা থেকেই আক্রোশ, বৃদ্ধা খুনে জগৎবল্লভপুরে ধৃত স্থানীয় যুবক

অবশেষে জগৎবল্লভপুরে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হল এক যুবক। ধৃতের নাম শানু মান্না। তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধার বাড়ির সামনে বসে রোজ মদ্যপান করতেন যুবক। দুর্গা মণ্ডল (৬৫) নামে ওই বৃদ্ধা তার প্রতিবাদও করতেন।

মদ্যপানে বাধা থেকেই আক্রোশ, বৃদ্ধা  খুনে জগৎবল্লভপুরে ধৃত স্থানীয় যুবক
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অবশেষে জগৎবল্লভপুরে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হল এক যুবক। ধৃতের নাম শানু মান্না। তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধার বাড়ির সামনে বসে রোজ মদ্যপান করতেন যুবক। দুর্গা মণ্ডল (৬৫) নামে ওই বৃদ্ধা তার প্রতিবাদও করতেন। তাই আক্রোশের বশে দোল পূর্ণিমার রাতে বাড়িতে ঢুকে দুর্গাদেবীকে খুন করেন তিনি। শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ।

Advertisement

শুক্রবার জগৎবল্লভপুরের মধ্য সন্তোষপুর এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দুর্গা মণ্ডলের ক্ষতবিক্ষত দেহ। দেহে পচন ধরতে শুরু করায় প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ছিল, অন্তত তিনদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মাথায় আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি মৃতের মুখে একটি সাঁড়াশি গুঁজে রাখা ছিল। তদন্তে নেমে শনিবার কয়েকজন স্থানীয় যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তাদের মধ্যেই ছিলেন শানু মান্না। জেরার মুখে প্রথমে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, দুর্গা মণ্ডলের বাড়ির পাশের জমিতে প্রায় রোজ সন্ধ্যার পর দলবল নিয়ে বসে মদ্যপান করতেন শানু। মদের বোতল ও খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে রাখা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেন বৃদ্ধা। তা নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে বচসা হতো। সেই থেকেই অভিযুক্তের মনে ক্ষোভ জমছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। জিজ্ঞাসাবাদে শানু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমার রাতে মদ্যপ অবস্থায় দুর্গা মণ্ডলের বাড়িতে যান তিনি। তাঁকে চিনতে পেরে দরজা খুলে দেন বৃদ্ধা। যদিও এরপর মদ্যপান নিয়ে তাঁকে তিরস্কার করতে থাকেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গা মণ্ডল প্রায়ই হাতে একটি সাঁড়াশি নিয়ে চলাফেরা করতেন। ঘটনার রাতেও তাঁর হাতে সেটি ছিল বলে দাবি অভিযুক্তের।
পুলিশের দাবি, তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেন শানু। তাতে তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরপর শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। আক্রোশ মেটাতে পড়ে সেই সাঁড়াশিটি বৃদ্ধার মুখে গুঁজে দেন অভিযুক্ত। খুনের পর বাড়ির তিনটি দরজায় তালা লাগিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান শানু।
পুলিশের দাবি, সন্দেহ এড়াতে ঘটনার পরেও রোজ ওই জমিতে বন্ধুদের সঙ্গে বসে মদ্যপান করতেন অভিযুক্ত। দলের কেউই তার এই কাণ্ডের আঁচ পাননি। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, খুনের ঘটনায় শানু একাই জড়িত। ধৃতকে পুলিশি হেপাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ