Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

‘মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় মোহন ভাগবতকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ এসেছিল’, বিস্ফোরক অভিযোগ অবসরপ্রাপ্ত এটিএস অফিসারের

বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সহ মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার সাত অভিযুক্তকে একদিন আগেই বেকসুর খালাস করেছে বিশেষ আদালত। তারই মধ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন মহারাষ্ট্র জঙ্গি দমন শাখার (এটিএস) অবসরপ্রাপ্ত এক অফিসার।

‘মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় মোহন ভাগবতকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ এসেছিল’, বিস্ফোরক অভিযোগ অবসরপ্রাপ্ত এটিএস অফিসারের
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পুনে: বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সহ মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার সাত অভিযুক্তকে একদিন আগেই বেকসুর খালাস করেছে বিশেষ আদালত। তারই মধ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন মহারাষ্ট্র জঙ্গি দমন শাখার (এটিএস) অবসরপ্রাপ্ত এক অফিসার। ২০০৮ সালে মালেগাঁওয়ে মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণে ছ’জনের মৃত্যু হয়েছিল। জখম হয়েছিলেন শতাধিক। এনআইএ দায়িত্ব নেওয়ার আগে ওই ঘটনার তদন্তভার ছিল মহারাষ্ট্র এটিএসের হাতে। প্রাক্তন এটিএস ইনসপেক্টর মেহবুব উজাওয়ারের অভিযোগ, মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁকে উপরমহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ভারতে ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ভাগবতকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ এসেছিল। 

Advertisement

অবসরপ্রাপ্ত এটিএস অফিসারের এই অভিযোগের পর কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপি। ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণের সময় কেন্দ্রে ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। মহারাষ্ট্রেও ছিল কংগ্রেসের সরকার। বিজেপি সাংসদ তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা বলেন, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একযোগে ক্ষমা চাওয়া উচিত। জাতীয়তাবাদ ও সনাতন ধর্মকে কলুষিত করার চক্রান্ত হয়েছিল। সঙ্ঘ ও তার পদাধিকারীরা সবাই জাতীয়তাবাদী বলেই তাঁদের ফাঁসানোর চক্রান্ত হয়েছিল। এখনও তা অব্যাহত।
বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালত ১৭ বছর আগের এই মামলায় সাধ্বী প্রজ্ঞা সহ সাত অভিযুক্তকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাব ও তদন্তে পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে বেকসুর খালাস করে দেয়। রায় ঘোষণার পরই মালেগাঁও ইস্যুতে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ তত্ত্বের বিরোধিতায় সুর চড়ায় বিজেপি। সেই অবহেই এবার ‘বোমা’ ফাটালেন অবসরপ্রাপ্ত এটিএস অফিসার মেহবুব উজাওয়ার। তাঁর অভিযোগ, মোহন ভাগবতকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার পরমবীর সিং। উজাওয়ারের কথায়, ‘নির্দেশ এসেছিল পরমবীর সিং ও অন্যান্য উর্ধ্বতন অফিসারদের কাছ থেকে। আমাকে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছিল রাম কালসাংগ্রা, সন্দীপ দাঙ্গে, দিলীপ পাটীদার ও আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে। মহারাষ্ট্রে মোহন ভাগবতের প্রভাব বিশাল। তাঁর মতো এক ব্যক্তিত্বকে গ্রেপ্তার করা আমার সাধ্যের বাইরে ছিল।’ অবসরপ্রাপ্ত এই এটিএস অফিসারের আরও অভিযোগ, মালেগাঁও মামলায় যে ‘ভুয়ো অফিসার’-এর মাধ্যমে ‘সাজানো তদন্ত’ হয়েছিল, আদালতের রায়েই তা স্পষ্ট। মোহন ভাগবতকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের নির্দেশ অমান্য করেছিলাম বলে তদন্তকারী অফিসার পরমবীর সিং আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন। ওরা আমাকে বলেছিল, মৃত ব্যক্তিদের জীবিত হিসেবে দেখিয়ে চার্জশিট ফাইল করতে। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। আইনের বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করতে চাইনি। সেই জন্যই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত আমাকে সেই সব মামলায় নির্দোষ বলে রায় দিয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ