


জেরুজালেম: অপারেশন ‘নার্নিয়া’। অন্তর্নিহিত অর্থ ‘কল্পকাহিনি’। নামকরণ স্বার্থক। সত্যিই এ যেন এক কল্পকাহিনি! কারণ, ঘুমের মধ্যেই নেমে এসেছে মৃত্যু। একজন, দু’জন নয়। ইজরায়েলি বাহিনীর সিক্রেট অপারেশনে পরপর মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন ইরানের ন’জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী। ইহুদি বাহিনী যখন নিখুঁত হিসেব কষে হামলা চালায়, তখন তাঁরা প্রত্যেকেই বাড়িতে ঘুমচ্ছিলেন। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব হল? নেপথ্যে কাজ করছে ইজরায়েলের গুপ্তচর বাহিনীর নির্ভুল তথ্য।
অপারেশন ‘নার্নিয়া’র অন্তর্গত ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের প্রথমেই মোট চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিয়েছিল ইজরায়েলের ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট। যেসব বিজ্ঞানীদের সামরিক অভিজ্ঞতা যত বেশি ও তাঁদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল, র্যাঙ্কিংয়ে তাঁদের তত উপরের দিকে রাখা হয়। সেই সূত্রেই তৈরি হয় হিট লিস্ট। নিহত এই পরমাণু বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা ইরানের পরমাণু গবেষণার একেবারে শীর্ষস্তরে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু কীভাবে চলল এই অপারেশন? ইজরায়েলি বাহিনীর এক প্রবীণ আধিকারিক জানান, অভিযানের পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ও এয়ারফোর্সের বাছাই করা ১২০ জনকে ইউনিট ৮২০০-তে এনে রাখা হয়। গত এক বছর ধরে আমরা ‘টার্গেট ব্যাঙ্ক’ গড়ে তুলি। প্রতিটি টিমের জন্য ধার্য ছিল আলাদা আলাদা লক্ষ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পরমাণু বিজ্ঞানীদের খতম, কমান্ড সেন্টারগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া ও রেডার সিস্টেম ধ্বংস করে দেওয়া ইত্যাদি। আর এই সবটাই একত্রিত করে শুরু করা হয় অপারেশন ‘রাইজিং লায়ন’। আর তারই অন্তর্গত অপারেশন ‘নার্নিয়া’য় পরপর শেষ ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীরা। ইজরায়েল এই অপারেশন সম্পর্কে কোনও তথ্য জানায়নি। তবে সূত্রের খবর, বিজ্ঞানীদের মারতে ড্রোন ব্যবহার করেছিল মোসাদ।
এদিকে, বাঙ্কারে আত্মগোপন করা অবস্থাতেই তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, খামেনেইয়ের ছেলে মোজতাবার নাম নেই সেই তালিকায়।