


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: মহাদেব পর্বতের ঠিক নীচের ঘন জঙ্গলঘেরা এলাকায় সন্দেহভাজন কিছু গতিবিধি টের পাওয়া যাচ্ছে। সর্বপ্রথম গভীর অরণ্যে যাতায়াত করা এবং ওই এলাকায় বসবাস করা উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রাচীন কাশ্মীরি গোষ্ঠী সেটা টের পায়। দাচিগাঁও জঙ্গলের ঠিক বাইরে ১৬ জুন থেকে মোতায়েন ছিল জম্মু কাশ্মীর পুলিস এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকটি টিম। বাসিন্দাদের ওই ইনপুট পেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে বাহিনী। তবে চূড়ান্ত প্রস্তুতি না নিয়ে অরণ্যে প্রবেশ করে কোনও বড় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে চায়নি বাহিনী। ফলে সেই মতো শুরু হয় প্রস্তুতি। এরই মধ্যে ১৭ দিন পর হঠাৎ লক্ষ্য করা যায় চীনা আলট্রা রেডিও কমিউনিকেশনের কিছু সাংকেতিক বাক্য ধরা পড়ছে চিনার কোর সেনা বাহিনীর ইন্টারসেপশনে। তারপরই অপারেশনের প্রস্তুতি। মহাদেব পর্বত শিখরের নামানুসারে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন মহাদেব।
ধীরে ধীরে তিনদিক থেকে অগ্রসর হয়েছে যৌথবাহিনী। একদিকে চিনার বাহিনী একদিকে সিআরপিএফ তৃতীয় দিকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিস। সোমবার সকাল ১১ টা থেকে চুড়ান্ত আঘাত শুরু। দুপুরের মধ্যেই জানা গেল, তিন জঙ্গি নিহত। সূত্রের খবর, জঙ্গিরা যখন টেন্টের ভিতর বিশ্রাম নিচ্ছিল। আচমকাই তাঁদের ঘিরে ধরে যৌথ বাহিনী। প্রত্যাঘাতের এতটুকু সুযোগ পায়নি জঙ্গিরা। মুহূর্তে গুলিতে খতম তিন জন। এই সংঘর্ষের পরই নিহতদের পরিচয় নিয়ে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের অভিমত, পহেলগাঁওয়ে হামলাকারী ও মূল চক্রান্তকারীদের মধ্যেই ছিল এই তিন নিহত জঙ্গি। যারা পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর জঙ্গল থেকে আর বেরয়নি। শ্রীনগরের কাছে দাচিগাঁও জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। গভীর বনে লুকিয়ে ছিল তারা। প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় বলা হয়েছে, সুলেমান শাহ ওরফে হাসিম মুসা, জিব্রান এবং হামজা আফগানি। যদি সত্যিই প্রথম জন সুলেমান শাহ হয়, তাহলে সে লস্কর-ই-তোইবার সেই কুখ্যাত জঙ্গি কমান্ডার। এক সময় পাকিস্তান আর্মিতেই ছিল। যদিও কাশ্মীর জোনের আইজি বিধি কুমার বির্দি বলেছেন, নিহতদের পরিচয় আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সবদিক থেকে নিশ্চিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। প্রসঙ্গত, ঠিক যেদিন লোকসভায় অপারেশন সিন্দুর ও পহেলগাঁও কাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হল, সেদিনই দাচিগাঁও ন্যাশনাল পার্কের গভীরে শুরু হয় অপারেশন মহাদেব। যখন প্রত্যাশিতভাবেই মনে করা হচ্ছে এই আলোচনায় বিরোধীদের প্রধান প্রশ্ন হবে, কোথায় গেল পহেলগাঁওয়ের হামলকারীরা? সেই সময়ই হামলাকারীরা সংঘর্ষে নিহত বলে জানানো হল।
নিহতদের থেকে পাওয়া গিয়েছে একঝাঁক অটোমেটিক কার্বাইন, এ কে ফর্টি সেভেন এবং গ্রেনেড। এত অস্ত্র নিয়ে তারা ঘুরছিল জঙ্গলের মধ্যে? আত্মরক্ষার জন্য? নাকি আরও কোনও লক্ষ্য ছিল? খতিয়ে দেখছে সেনাবাহিনী।
একনজরে অপারেশন মহাদেব
সকাল ৮টা: জঙ্গিদের উপস্থিতি জানতে উড়ল ড্রোন
সকাল ৯টা ৩০ মিনিট: ধীরে ধীরে মহাদেব হিলসে উঠতে শুরু করে যৌথ বাহিনী
সকাল ১০টা: আধ ঘণ্টার মধ্যেই পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যায় বাহিনী
সকাল ১১টা: প্রথম গুলি চালায় বাহিনী। গুলিবিদ্ধ হয় ৩ জঙ্গি
সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট: জখম এক জঙ্গি পালানোর চেষ্টা করতেই তাকে গুলি করে নিকেশ করে বাহিনী
দুপুর ১২টা: ঘটনাস্থলের ২ কিমি এলাকাজুড়ে তল্লাশি চলে
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট: জঙ্গিদের দেহ শনাক্তকরণ ও ছবি তোলা সম্পন্ন করে বাহিনী