Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬

বিহারে টার্গেট শুধু বিরোধী দুর্গ! কোপ মহিলা-মুসলিম ভোটারে, চূড়ান্ত তালিকার সব ভোটারকেই নতুন এপিক দেবে কমিশন

শিরোনাম বিহার। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর আরও বেশি। কারণ, ভোটারদের নাম বাদ পড়ার নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মূলত ভোটার বাদ গিয়েছে বিরোধী দুর্গ বলে পরিচিত জেলাগুলিতেই।

বিহারে টার্গেট শুধু বিরোধী দুর্গ! কোপ মহিলা-মুসলিম ভোটারে, চূড়ান্ত তালিকার সব ভোটারকেই নতুন এপিক দেবে কমিশন
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শিরোনাম বিহার। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর আরও বেশি। কারণ, ভোটারদের নাম বাদ পড়ার নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, মূলত ভোটার বাদ গিয়েছে বিরোধী দুর্গ বলে পরিচিত জেলাগুলিতেই। শুধু তাই নয়, বাদ যাওয়া ভোটারদের সিংহভাগই মহিলা এবং সংখ্যালঘু। এই তথ্য সামনে আসা মাত্র ক্ষোভের আঁচ বাড়ছে বিহারজুড়ে। বিরোধীদের ‘দাবি মেনে’ বাদ যাওয়া ৬৫ লক্ষ ভোটারের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশন ১২টি দলের হাতে তুলে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নয় ভোটমুখী বিহার। কারণ, ইন্টেনসিভ রিভিশনে বাদ যাওয়া ভোটারদের ৫৫ শতাংশই মহিলা। একইসঙ্গে রাজ্যের যে ১০টি জেলায় সবথেকে বেশি সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, তার পাঁচটিই সংখ্যালঘু বা মুসলিম প্রভাবিত। খুব স্বাভাবিকভাবে এই জেলাগুলিতে বিজেপির তুলনায় আরজেডি এবং কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক অনেক বেশি শক্তিশালী। পাশাপাশি যে জেলাগুলিতে শাসক-বিরোধী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেও উল্লেখযোগ্য হারে নাম বাদ গিয়েছে। কেন এই ‘প্যাটার্ন’? এর নেপথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী? এই প্রশ্ন এখন উঠছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, আমাদের জনভিত্তিকে নিশানা করাটাই কি এসআইআরের উদ্দেশ্য?

Advertisement

এইসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কমিশনের পক্ষ থেকে মিলছে না। বরং তারা জানাচ্ছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রত্যেক ‘বৈধ’ ভোটারকে দেওয়া হবে নতুন এপিক বা ভোটার পরিচয়পত্র। তাই যাদের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে, অথবা নতুন করে যাঁরা নাম তুলতে চাইছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বুথ লেভেল অফিসারের কাছে সাম্প্রতিক ছবি (ফটোগ্রাফ) জমা দিতে বলা হচ্ছে। সেটা দিয়েই তৈরি হবে নতুন এপিক (ইলেকটরস ফটো আইডেন্টেটি কার্ড)। পাশাপাশি নাম বাদ যাওয়া এবং থাকার দায় দলগুলির উপর চাপিয়ে কমিশন সাফ জানিয়েছে, খসড়া তালিকার সঙ্গে ২৪ জুনের লিস্ট আপনারা মিলিয়ে নিন। কোনও অভিযোগ থাকলে বলুন। প্রমাণ করুন। কমিশন সূত্রে খবর, এখন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্তি এবং খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৯৪১ জনের আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া আগামী ১ অক্টোবর যাঁরা আঠারোয় পা দেবেন, এমন ৪ হাজার ৩৭৪ জনের আবেদন পেয়েছে কমিশন। এক সপ্তাহ পর আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। আর যে তথ্য সরাসরি কমিশন বলছে না, তা হল, বিহারের ২৪৩ আসনের মধ্যে ৪৩টিতে বাদ পড়া ভোটারদের ৬০ শতাংশ বা তার বেশিই কিন্তু মহিলা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকা ও ১ আগস্টের খসড়া তালিকা মিলিয়ে এই তথ্য উঠে আসছে। এখানেই শেষ নয়। খসড়া তালিকাই বলছে, ৩৮ জেলার মধ্যে যে ১০টিতে ভোটার বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি, তার পাঁচটিই মুসলিম প্রভাবিত—পূর্ণিয়া, কিষাণগঞ্জ, মধুবনী, ভাগলপুর, সীতামারি।  এই জেলাগুলিতে ‘ছাঁটাই’য়ের হার ৯ থেকে ১২ শতাংশ। সারন, ভোজপুর, সিওয়ানের মতো জেলা পরিচিত বিরোধী মহাগঠবন্ধনের গড় হিসেবে। সেখানেও যে হারে নাম বাদ পড়েছে, তাতে আরজেডির ভোটব্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হল বলেই ওই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইভাবে পাটনা (জোটের ৯ আসন), মগধ অঞ্চলের ঔরঙ্গাবাদের মতো বিরোধী গড়গুলিতেও একই শঙ্কা থাকছে। এই এলাকায় ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দাপট দেখিয়েছিল আরজেডি জোট। এছাড়াও সমস্তিপুর, বৈশালী, মুজফফরপুরেও খসড়া তালিকায় নাম বাদের হার রাজ্য-গড়ের তুলনায় বেশি। এই জেলাগুলির গুরুত্ব কোথায়? গত লোকসভা ভোটে এই সব এলাকায় জয়ের মার্জিন কিন্তু ছিল নগণ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ