


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। এই সন্ধিক্ষণেও বঙ্গ বিজেপি কার্যত নিস্তরঙ্গ। অথচ, ২০২১ সালে ভোটের মুখে পদ্মপার্টিতে যোগ দেওয়ার ধুম পড়ে গিয়েছিল। বাঁধভাঙা নদীর মতো বিভিন্ন দল থেকে প্রতিদিন বিজেপিতে যোগদান আক্ষরিক অর্থে যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি যেদিকে গড়িয়েছিল, তাতে তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাজ্য পার্টি অফিসে প্রতিদিন পৃথক কর্মসূচি চালু করেন। যোগদান মেলার নামে দলবদলুদের বিজেপির পতাকা ধরানোর কর্মসূচি আর কী। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়েছিল টিকিট প্রার্থীদের লাইন। রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, অভিনেতা, আইনজীবী সহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিজেপি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। রাজ্য বিজেপি দপ্তরের ড্রপ বক্স সেই সময় বায়োডেটা সহ আবেদনপত্রে উপচে পড়ত। মাঝে মাত্র একটা ভোট। আর তাতেই সম্পূর্ণ উলটো ছবি বঙ্গ বিজেপির দপ্তরে। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার হিড়িক নেই, আর প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও তলানিতে। একমাস হতে চলল, বিজেপির ড্রপ বক্সে জমা পড়া আবেদনপত্র থমকে আছে কয়েকশোয়।
পার্টির ভাড়া করা বেসরকারি সমীক্ষক সংস্থা এ রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। বঙ্গ ইউনিটের নেতারা তা বড়াই করে প্রচার করছেন। কিন্তু তাতেও সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন পেশাদারদের মধ্যে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আর নবান্ন দখলের রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখে এই ছবি মোটেও বঙ্গ বিজেপির পক্ষে আশাব্যঞ্জক বিজ্ঞাপন নয়। গত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ড্রপ বক্সেই আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজারের উপর। ২০১৯ লোকসভা ভোটে এই সংখ্যাটা ছিল ২০ হাজারের বেশি। এবার তা রীতিমতো তলানিতে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গ বিজেপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেঠো রাজনীতির সঙ্গে আমাদের হিন্দিভাষী নেতারা পাল্লা দিতে পারছেন না। রাজ্য সরকারের গুচ্ছ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়স এবং লিঙ্গের ভোটারদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে সরাসরি টাকা ঢুকছে। ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) পর্বে সাধারণ মানুষের পাশে বিজেপি নেতা-কর্মীদের তেমনভাবে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, মহল্লায় মহল্লায় তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জনতার সঙ্গে ছিলেন। রাজনৈতিক লড়াই জারি পথেঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানুষ দেখতে পাচ্ছে। ফলে ভোটের প্রথমার্ধের লড়াইয়ে জোড়াফুল শিবির যে বেশ কিছুটা এগিয়েই শুরু করেছে, তাতে সংশয় নেই।’ রাজ্য কমিটির এক সদস্যের দাবি, ‘এখনও ভোট প্রচারে আমাদের পাখির চোখ ঠিক হয়নি। উগ্র হিন্দুত্ব? নাকি সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি? বিধানসভা ভোটের ইস্তাহারে কোন বিষয়গুলি অগ্রাধিকার পাবে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই বিতর্ক রয়েছে। তার উপর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন, সেটাও অনিশ্চিত। সে ব্যাপারে আবার নানা মুনির নানা মত। ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ এই সমীকরণেই যে ড্রপ বক্স ভরতি হচ্ছে না, তাতে সন্দেহ নেই। সব মিলিয়ে তাই ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে ঘর গুছিয়ে উঠতে পারছে না বঙ্গ বিজেপি।