নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইচ্ছা ছিল, ইডেনের গ্যালারিতে বসে নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে লখনউয়ের হয়ে গলা ফাটাবেন তাঁরা। তারপর রাতেই ধরবেন দেশে ফেরার বিমান। কিন্তু সেটা আর হল কোথায়! রামনবমীর নিরাপত্তার কারণে কলকাতা-লখনউ ম্যাচটি পিছিয়ে হবে মঙ্গলবার। তাই ম্যাচ নয়, রবিবার প্রিয় দলের প্র্যাকটিস দেখেই মনকে সান্ত্বনা দিলেন জন ম্যাকডোনাল্ড, পল ফিগলিওমেনি ও টড পিয়ারসেন। তাঁরা এসেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। জন হলেন মিচেল মার্শের বন্ধু। আর ল্যাঙ্গারের সহপাঠী পল। তবে টড পিয়ারসেনের পরিচয় চমকে দেওয়ার মতোই। তিনি ২০০০ সালে সিডনি ওলিম্পিকসে সাঁতারে ৪×৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে সোনা জিতেছিলেন। সেই সাফল্যে তাঁর সঙ্গী ছিলেন কিংবদন্তি ইয়ান থর্প। এখানেই থামেননি পিয়ারসেন। ২০০৪ এথেন্স ওলিম্পিকসেও রুপোর পদক জিতেছিলেন তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর ভারতে ছুটে আসা ক্রিকেটের টানে, আইপিএলের রসাস্বাদনে।
লখনউয়ের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও ওপেনার মিচেল মার্শ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার। জন, পল, পিয়ারসেনও ওই অঞ্চলেরই বাসিন্দা। সেই রসায়নেই তিন বিদেশি অজান্তেই হয়ে উঠেছেন এলএসজি’র সমর্থক। একানা স্টেডিয়ামে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে পন্থদের জয়ের সাক্ষী ছিলেন তাঁরা। মার্শের দুর্দান্ত ফর্ম দেখে উচ্ছ্বসিত ত্রয়ী। একসুরে তাঁরা বললেন, ‘ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে এবার কিন্তু ট্রফি জিততে পারে লখনউ সুপার জায়ান্টস।’
ইডেনে ম্যাচ দেখতে না পাওয়ার আপশোস ঝরে পড়ল জনের গলায়। বললেন, ‘এই মাঠের সঙ্গে জড়িয়ে বহু ইতিহাস। ২০০১ সালের টেস্টের কথা আজও ভুলিনি। ভারতের অন্যতর সেরা ভেন্যু এটা। আশা ছিল, এখানে একটা ম্যাচ দেখে দেশে ফিরব। কিন্তু সেটা না হওয়ায় মন খারাপ। সব শুনে ল্যাঙ্গার প্র্যাকটিস দেখতে আসার কথা বলেছিল। ঘুরতে ঘুরতে চলে এলাম। ওদের শুভেচ্ছাও জানিয়ে গেলাম। আইপিএলের জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য। আমাদের বিগ ব্যাশ লিগ এর সামনে শিশু।’ টি-২০’র উত্তেজনা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেও ওলিম্পিকসে সোনাজয়ী টড পিয়ারসেন কিন্তু টেস্ট-প্রেমী। তিনি জানালেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি। বক্সিং ডে টেস্ট হলে কোনও টিকিট পড়ে থাকে না। অ্যাসেজও দারুণ উপভোগ করি। ইডেনে টেস্ট দেখার ইচ্ছা রয়েছে। জানি না সেই সুযোগ আসবে কিনা!’