


সুকান্ত বেরা, চেন্নাই: ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে হোটেলেই বন্দি থাকলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। চিপকমুখো হলেন না। সেটাই প্রত্যাশিত। আগের দিন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর পর কুল অফ পিরিয়ডও প্রয়োজন। তাই দুপুর দুটোয় রাখা হয়েছিল অপশনাল প্র্যাকটিস। ব্যাটার বলতে শুধু তিলক ভার্মা, যাঁর প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে বিস্তর চর্চা। অনুশীলনে তাঁর সঙ্গী মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া কেকেআরের তারকা স্পিনার। অনেকটা সময় নেটে কাটালেন। গত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রচুর রান দিয়ে দলকে বিপদে ফেলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাও ছিল অনেকখানি। তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কিন্তু স্পিনের ভেল্কি দেখিয়েছেন বরুণ। উইকেট নিয়েছেন। দলের জয়ে হয়ে উঠেছেন কারিগর। তাই একটা ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে বরুণ চক্রবর্তীকে মাপতে যাওয়া ঠিক নয়।
আসলে এই ভারতীয় দলের সমস্যা যতটা না টেকনিক, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক। কারণ, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অভিষেক শর্মার বিস্ফোরক ব্যাটিংই ভারতকে জয়ের পথ দেখিয়েছে। কামব্যাকের পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দুরন্ত ফর্মে ধরা দিয়েছিলেন ঈশান কিষান। পাকিস্তান ম্যাচে তাঁর ঝোড়ো ইনিংসই গড়ে দিয়েছিল ফারাক। সূর্যকুমার যাদব কিংবা হার্দিক পান্ডিয়া— প্রত্যেকেই কিন্তু প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে হয়েছিলেন ফ্লপ।
রাতারাতি এই পদস্খলন ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে হয়ে উঠেছে মাথাব্যথার বড় কারণ। ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক কিছুতেই অভিষেকের অফ ফর্মের কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলছেন, ‘এরকম পরিস্থিতিতে বেশি আলোচনা করলে অভিষেক আরও চাপে পড়ে যাবে। আমরা জানি, ও কী ধরনের ব্যাটিং করে। ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনই ডিভিডেন্ডও দেয় বেশি। সেই ঝুঁকি নেওয়ার জন্য আমরা তৈরি। ঈশানের খেলা আমরা দেখেছি। পাকিস্তান ম্যাচে ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছিল। আসলে ওরা শুরুটা ভালো করতে পারলে বড় ইনিংস খেলে দেবে। সেই আত্মবিশ্বাস ফেরানোটাই জরুরি।’
ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়াতে কোচ গম্ভীর নাকি আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তেমনটাই জানালেন ব্যাটিং কোচ। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের আগের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলির বেশ কিছু ইনিংসের ভিডিয়ো ফুটেজও দেখানো হয়েছে ঈশান ও অভিষেককে। তাঁরা যে ম্যাচ জেতাতে পারেন, সেই আত্মবিশ্বাস গুঁজে দেওয়ার প্রয়াস স্পষ্ট ভারতীয় শিবিরে। সেটা জরুরিও।
এরমধ্যেই চেন্নাইয়ে ভারতীয় শিবিরে ফিরে এসেছেন রিঙ্কু সিং। বাবার অসুস্থতার জন্য মঙ্গলবার তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। রিঙ্কুর বাবা খানচন্দ্র সিং স্টেজ ফোর লিভার ক্যান্সারে ভুগছেন। গ্রেটার নয়ডার হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। রিঙ্কু অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফিরেছেন চেন্নাইয়ে।