Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরনো নজরদারি ফিরছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, চলবে বহিরাগত-নিয়ন্ত্রণ, খুনের অভিযোগ দায়ের মৃতের মা-বাবার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আবার ফিরছে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ। র‌্যাগিংয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পরে অনেক জলঘোলার পর আইকার্ড দেখে ক্যাম্পাসে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের ঢোকানোর ব্যবস্থা হয়।

পুরনো নজরদারি ফিরছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, চলবে বহিরাগত-নিয়ন্ত্রণ, খুনের অভিযোগ দায়ের মৃতের মা-বাবার
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আবার ফিরছে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ। র‌্যাগিংয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পরে অনেক জলঘোলার পর আইকার্ড দেখে ক্যাম্পাসে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের ঢোকানোর ব্যবস্থা হয়। নিয়ন্ত্রণ করা হয় গাড়ি চলাচল। বিভিন্ন সমস্যা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া, তাঁদের মানসিক বিষয়টি নজরে রাখার জন্য মেন্টর অধ্যাপকের ব্যবস্থা ছিল। কিছুদিন চলার পরে এসব ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে সেসব আবার ফেরাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। অন্যদিকে, এদিনই লালবাজারে মেয়ের মৃত্যুতে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন ছাত্রীর মা-বাবা।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এদিন ডিন, অধ্যাপক, আধিকারিকদের নিয়ে নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক ছিল। সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত জানিয়েছেন, অধ্যাপক পিছু ২৫ জন পড়ুয়া রেখে যে মেন্টরশিপ ব্যবস্থা ছিল, তা ফের চালু করা হবে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে বিশেষ টিম। জলাশয়ের আশেপাশে বেড়া দিয়ে ঘেরা হবে। ঘটনার দিন যে অনুষ্ঠান চলছিল, সেটির অনুমতি রাত ৮টা পর্যন্ত থাকলেও তার বেশি কেন চলেছে, সেই উত্তর সহ-উপাচার্য দিতে পারেননি। কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের হাতে নেই। যেটুকু ফুটেজ রয়েছে তা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজে থেকে কোনও তদন্ত করছে না। এদিকে, মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর চারদিনের মাথায় পুলিশে অভিযোগ করলেন বাবা। সোমবার লালবাজারে পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মার সঙ্গে কথা বলেন মৃতার বাবা-মা। সিপিকেই ‌অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। এরপরেই যাদবপুর থানায় গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন ছাত্রীর বাবা-মা। লালবাজার জানিয়েছে, অনামিকা মণ্ডলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় খুনের কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুন ও ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধের মামলা রুজু করা হয়েছে। 
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যেই ঝিলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকার। সঙ্গী ছাত্রীদের দাবি, মদ্যপান করছিলেন তিনি। বান্ধবীদের অনুমান, নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেই বেসামাল হয়ে ঝিলে পড়ে যান তরুণী। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেই তদন্ত চালায় যাদবপুর থানার পুলিশ। মৃতার বাবার অভিযোগ, কেউ বা কারা মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ঝিলে ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি অনামিকার মদ্যপান করা নিয়ে বন্ধুদের দাবিকেও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন বাবা। তাঁর দাবি, মিষ্টুকে (অনামিকা) যাঁরা চেনেন, তাঁরা একথায় বিন্দুমাত্র সহমত পোষণ করবেন না। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, অনামিকার পাকস্থলী থেকে মদের গন্ধ পাওয়া গিয়েছে। পরীক্ষার জন্য মৃতার ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। অর্ণববাবুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হয়তো কারও কুপ্রস্তাবে মেয়ে সায় দেয়নি। তাই আক্রোশের বশে মেয়েকে ঝিলে ফেলে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।’ খুনের মামলা দায়ের করার পরই এদিন অনামিকার ৩ জন বান্ধবীকে যাদবপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়। ঘটনার রাতে তাঁরা ছাত্রীর সঙ্গেই ছিলেন। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেন তদন্তকারীরা। রবিবার আরও ৪ বন্ধুর বয়ান রেকর্ড করেছিল পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ