


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বুথে ঢুকে ভোটকক্ষে সাধারণত ভোটাররা একটি ইভিএম দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু এবার ভাঙড়ের ভোটাররা পাবেন দু’টি ইভিএম! এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এমনই অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছেন ভাঙড়ের ভোটাররা। কারণ, এই কেন্দ্রে মোট ১৯ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। সাধারণত, একটি ইভিএমে ১৬টি বাটন থাকে। তাতে ১৫ জন প্রার্থীর নাম ও ‘নোটা’ স্থান পায়। প্রার্থীর সংখ্যা তার বেশি হয়ে গেলেই দ্বিতীয় ইভিএমের প্রয়োজন পড়ে। রাজ্যের মধ্যে একমাত্র এই বিধানসভায় জোড়া ইভিএমে ভোট হবে। ভাঙড়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাতজন প্রার্থীর পাশাপাশি রয়েছেন ১২ জন নির্দল প্রার্থী। তাই ১৬ জনের নাম থাকবে একটি ইভিএমে। বাকি তিনজন ও ‘নোটা’ থাকবে অন্য একটি ইভিএমে। এই বিধানসভায় মোট বুথের সংখ্যা ৩০৪। আগের হিসাব অনুযায়ী, সমসংখ্যক ইভিএম, ভিভি প্যাট দরকার হত। কিন্তু এখন দ্বিগুণ মেশিন লাগবে। এর ফলে জেলা প্রশাসনের চিন্তা ও দায়িত্বও বেড়েছে। কারণ, হিসাব করে ইভিএম আনা হয়েছিল ভোটের জন্য। কিন্তু মনোনয়ন শেষে যা পরিসংখ্যান দাঁড়াচ্ছে, তাতে এবার অতিরিক্ত ভোট যন্ত্র আনতে হবে কমিশনকে। এতে যেমন খরচ বাড়বে, তেমনই ভোটকর্মীদের অতিরিক্ত ইভিএম বহন করে নিয়ে যাওয়ার ঝক্কিও সামলাতে হবে। স্ট্রংরুমে এতগুলি ইভিএম রাখার ক্ষেত্রে জায়গা নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ঠিক করেছে, বাড়তি ইভিএমগুলি একটার উপর একটা রাখা হবে। বুথে ভোটগ্রহণের সময় দু’টি ইভিএম পাশাপাশি রেখে ভোটকক্ষ তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা মিলছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে খবর।
একমাত্র ভাঙড়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হলেও রাজ্যের বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটুর জন্য অতিরিক্ত ইভিএম রাখতে হচ্ছে না। যেমন, কোচবিহার দক্ষিণ, করণদিঘি, ইটাহার। এসব কেন্দ্রেও রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি অনেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা করেছিলেন। স্ক্রুটিনিতে কিছু প্রার্থীপদ বাদ গিয়েছে। কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারপর এই তিন বিধানসভার প্রত্যেকটিতে প্রার্থীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। সঙ্গে থাকবে ‘নোটা’। তাই এই তিন বিধানসভায় একটি ইভিএমেই ভোট নেওয়া সম্ভব হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের কোনো কেন্দ্রে দু’টি ব্যালট ইউনিটের প্রয়োজন হয়নি। তবে গত লোকসভা ভোটে যাদবপুর ও কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে ১৫ জনের বেশি প্রার্থী হয়ে যাওয়ায় জোড়া ইভিএম ব্যবহার করতে হয়েছিল।