


সিনেমার সমালোচনা: বাগি ৪
টাইগার শ্রফ, সঞ্জয় দত্ত, হারনাজ সান্ধু, শ্রেয়স তালপড়ে
জনপ্রিয় সংলাপ খানিক বদলে নেওয়া যাক। সিনেমা চলে কেবল তিনটি বিষয়ের উপর... অ্যাকশন, অ্যাকশন, অ্যাকশন। এ কথাই মাথার মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন ‘বাগি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নির্মাতারা। ২০১৬ সাল থেকে গল্পের ধার তেমন না বাড়লেও অ্যাকশন আরও তুখোড় হয়েছে। সঙ্গে জুড়েছে রক্তের অন্তহীন ধারা। আর টাইগার শ্রফ, সঞ্জয় দত্তের দ্বৈরথ। ব্যাস! ‘বাগি ৪’ ছবি থেকে পাওনা এটুকুই। আর কিছুর প্রত্যাশা? ভুলেও করবেন না!
ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে ফিরে এসেছে রনি (টাইগার)। আচমকা সে দাবি করে তার প্রেমিকা আলিশা (হারনাজ সান্ধু) দুর্ঘটনার সময় তার সঙ্গেই ছিল। তবে সেই দাবিকে খারিজ করে রনির কাছের লোকেরাই। ভাই জিতু (শ্রেয়স তালপড়ে) পর্যন্ত জানায়, আলিশা রনির ভ্রম মাত্র। রনির কাছে অলিভিয়াকে (সোনম বাজওয়া) পাঠায় জিতু। তাদের মধ্যে গাঢ় হয় বন্ধুত্ব। এই টানাপোড়েনের মাঝে খুন হয় জিতু। পর্দায় আসে খলনায়ক চাকো (সঞ্জয়)। উত্তেজনা, রক্তক্ষয়ী অ্যাকশন আর প্রতিশোধের কাহিনি... এভাবেই এগিয়েছে চিত্রনাট্য।
‘অ্যানিমাল’ পরবর্তী সময়ে এই ছবির কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল ভয়াবহতা, হিংস্রতাকে ছাপিয়ে যাওয়া। ট্রেলার থেকেই স্পষ্ট, সেদিক থেকে নির্মাতারা সফল। পর্দাজুড়ে ভায়োলেন্সের ফুলঝুড়ি যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে ছবিটি। পাশাপাশি দু’জনের পারফরম্যান্স নজর কাড়তে বাধ্য। প্রথম টাইগার শ্রফ। ফ্র্যাঞ্চাইজির শুরু থেকেই তিনি প্রমাণ করেছেন, এ গল্প তাঁর জন্যই লেখা। কয়েকটি দৃশ্যে তাঁর দুঃসাহসী স্টান্ট দেখলে মনে হবে তিনি যেন মাধ্যাকর্ষণকেও হারাতে জানেন। দ্বিতীয় চমক সঞ্জয় দত্ত। ফের ক্ষুরধার ভিলেনের ভূমিকায় তিনি অনবদ্য। গির্জার মধ্যে টাইগার ও তাঁর ফাইট দীর্ঘদিন মনে থাকবে। সমস্যাও দানা বেঁধেছে এখানেই। আড়াই ঘণ্টা ধরে অ্যাকশনের পুনরাবৃত্তি দেখতে ক্লান্তি আসবেই। বারংবার সঞ্জয়ের হুঙ্কার, কান ফাটানো হাসি বাড়াবাড়ি। অনায়াসে কাঁচি চালাতে পারতেন সম্পাদক। অ্যাকশন বা নাচের ক্ষেত্রে টাইগার যতখানি সাবলীল, আবেগের দৃশ্যে তিনি ততখানি অসহায়। প্রথম ছবিতে প্রাক্তন মিস ইউনিভার্স হারনাজ সান্ধুকে দেখতে ভালো লাগে। তবে তাঁর সঙ্গে টাইগারের রসায়ন জমেনি। সোনম বাজওয়া, শ্রেয়সরা স্বল্প সময়ে ভালো কাজ করেছেন। পরিচালক এ হর্ষ অ্যাকশন সামলাতে গিয়ে গল্পে তাল কেটেছেন। প্রথমার্ধে হ্যালুসিনেশনের রহস্য অতিরিক্ত বাড়ানোয় ছবির ছন্দপতন হয়। গানগুলিও অপ্রয়োজনীয়। দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা ফেরানোর চেষ্টা করেছেন পরিচালক। কিন্তু গল্পের ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রযুক্তি এ ছবির অন্যতম সম্পদ। পর্দায় ভিজ্যুয়াল নানা এফেক্ট দেখতে দারুণ লাগবে।
শান্তনু দত্ত