নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বংশ পরম্পরায় এদেশে বসবাস করা কয়েক হাজার মানুষকে ‘অভারতীয়’ তকমা দিয়ে নোটিস! এবার কমিশনের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠল। আরও অভিযোগ, তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপির তরফে যে ফর্ম-৭ (নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম) জমা করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এই নোটিস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের বয়ারমারি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নোটিস পাওয়া ভোটারদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা বংশপরম্পরায় ভারতীয়। তারপরেও তাঁদের ভারতীয় বলে মানতে নারাজ কমিশন। এর পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
নদীবেষ্টিত সন্দেশখালি সাম্প্রতিক রাজ্য রাজনীতিতে বহুচর্চিত একটি এলাকা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই এলাকাকে বিশেষভাবে ‘টার্গেট’ করেছে গেরুয়া শিবির। এসআইআর-কে হাতিয়ার করে তারা এখানে বিশেষ ‘অ্যাডভান্টেজ’ পেতে চাইছে। তাই নিজেদের মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে বংশপরম্পরায় ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্তা করতে মরিয়া উঠেছে বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই কারণেই বিজেপির জমা দেওয়া ফর্ম ৭-এর ভিত্তিতে প্রায় ২,২০০ ভোটারকে ‘নট ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করে শুনানির নোটিস ধরাচ্ছে কমিশন। সন্দেশখালি ১ নং বিডিও অফিসে মোট ২ হাজার ২৫৩ জনের নামের তালিকা ঝোলানো হয়েছে। তার মধ্যেই রয়েছে ওই নামগুলি। বাকিদের ‘মৃত’ বলে লেখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা বেঁচে থাকলেও ‘মৃত’ দেখিয়েছে কমিশন। তবে, বেশ কয়েকজনের নামের পাশে ‘অলরেডি এনরোল্ড’ লেখা আছে।
কমিশন যাঁদের ‘অভারতীয়’ তকমা দিয়েছে, তাঁদের একজন আমিনুল শেখ। তিনি বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষরা প্রত্যেকে ভারতীয়। উপযুক্ত প্রমাণও রয়েছে। ২০০২ সালে আমার পরিবারের সবার নাম ছিল। তারপরেও আমাদের ভারতীয় নয় বলে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে লিখে দিল। তাতেই আমরা অভারতীয় হয়ে গেলাম! বিষয়টা ভাবতেই অবাক লাগছে।’ একইভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিলুফা পারভিন। তিনি বলেন, ‘কীসের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের সন্দেহের তালিকায় রাখল, বুঝতে পারছি না। শুনেছি বিজেপি আমাদের নামে ফর্ম ৭ জমা দিয়েছে। এটা অপমানজনক।’ আরেক বাসিন্দা কুতুবউদ্দিন তরফদার বলেন, ‘গতবারও ভোট দিয়েছি। এখন আমি নাকি ভারতীয় নই!’ বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী বিজেপি নেতা তথা সন্দেশখালি ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রবিন দাস বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে সন্দেশখালিতে। তাই আমরা ফর্ম ৭ জমা দিয়েছিলাম।’ সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত পালটা বলেন, ‘এ ঘটনা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। নাগরিকত্ব যদি এভাবে কেড়ে নেওয়া যায়, তাহলে কেউই নিরাপদ নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মানুষের পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সবটাই বিজেপির ষড়যন্ত্র।’ তবে এনিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শশাঙ্ক শেট্টি ও বসিরহাটের মহকুমা শাসক জসলিন কৌর।