বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: নোদাখালির রায়পুর-মধ্য রায়পুর, সাউথ বাওয়ালির গ্রামীণ এলাকায় ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হচ্ছে। কুমারী পুজো এবং মহিলাদের অঞ্জলি দেওয়া ও ভোগ রান্নায় অংশগ্রহণ দেখার মতো।
বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: নোদাখালির রায়পুর-মধ্য রায়পুর, সাউথ বাওয়ালির গ্রামীণ এলাকায় ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হচ্ছে। কুমারী পুজো এবং মহিলাদের অঞ্জলি দেওয়া ও ভোগ রান্নায় অংশগ্রহণ দেখার মতো।
রায়পুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে জাঁকজমক সহকারে পুজো হয়। ১৩২ বছরের এই পুজোয় এবছর সাবেকি ঘরানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থিম। থিমের নাম, ‘মাটি’। মাটিতে জীবনের স্পন্দন এবং মাটিতেই লয়। সৃষ্টির চিরাচরিত এই নিয়মকে সামনে রেখে মাটির তৈরি উপাদান দিয়ে তৈরি মণ্ডপ। রায়পুর বাস স্ট্যান্ডের কাছে হয়েছে মাটির উপাদানের এই প্যান্ডেল। পুজো কমিটির সম্পাদক পিনাকি গায়েন বলেন, ‘মাটি হল আমাদের মা ধরিত্রী। তাকে ভেঙে তৈরি হয় প্রদীপ, কলসি, কুঁজো, সরা, হাঁড়ি, টব, মালসা ইত্যাদি জিনিসপত্র। মূর্তি সাবেকি ঘরানার।’ এখানকার এটাই সবথেকে বড় বারোয়ারি পুজো। পুজোর সময় পুষ্পাঞ্জলি এবং নিরঞ্জনের আগে সিঁদুর খেলায় কয়েকশো মহিলা অংশ নেন। মহালয়ার দিন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গঙ্গার একেবারে গা ঘেঁষে হয় মধ্যরায়পুর স্বদেশী মেলার মাঠের সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এ বছরে পাঁচে পা তাদের। এখানেও প্রতিমা সাবেকি। সঙ্গে থাকবে থিম। থিম হল, ‘দেবী ঘটে দশভুজা’। পুজোর পৃষ্ঠপোষক রামকুমার প্রামাণিক, কমিটির সম্পাদক সঞ্জীত গায়েন এবং সভাপতি উমাকান্ত মাঝি বলেন, ‘দেড় হাজার মাটির ঘট আর ৯০০ গামছা দিয়ে মণ্ডপ হয়েছে। কুমারী পুজো ও সিঁদুর খেলা এখানে বিশেষ গুরুত্ব পায়।’
সাউথ বাওয়ালির সাবমেরিন ও গ্রামবাসীবৃন্দের পুজো ৩৫ বছরে পড়ল। কমিটির কর্মকর্তা ডাঃ তরুণ রায় বলেন, ‘আমাদের এই গ্রামীণ পুজোয় রীতি মেনে দেবীর আরাধনা হয়। মহিলারা বেশি অংশ নেন। দুর্গার জন্য পদ্মফুল, শিউলি ফুলের মালা তৈরি বা ভোগ রান্নার জন্য তাঁরা উপোস করেন। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় দেবীর বন্ধন, যষ্ঠীর দিন কল্পারম্ভ, সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস,
সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকার স্নান, স্থাপন, সন্ধ্যায় আরতি হবে। এছাড়াও চণ্ডীপাঠ এবং অষ্টমী, নবমী ও দশমীর দিন যাবতীয় নিয়ম পালন হবে।’