


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি থেকে দলীয় পদাধিকারীরা কে, কোথায়, কী করছেন—তার সবদিকে নজর রাখা হচ্ছে। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল রাজ্যের শাসক দল। নেতাদের কাজে ও আচরণে কোনও অসংগতি নজরে এলে, কড়া পদক্ষেপ নিতে দল পিছপা হবে না। একবাক্যেই তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সাংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জেলাভিত্তিক রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। শুরু হয়েছে জেলাভিত্তিক বৈঠক। সোমবার কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বুধবার বৈঠক হয়েছে জলপাইগুড়ি ও মালদহ জেলায়। এই দুই জেলার তৃণমূল সভাপতি, চেয়ারম্যান, বিধায়ক, শাখা সংগঠনের প্রধানদের কলকাতায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। জেলার বিধানসভাভিত্তিক মূল্যায়ন হয়েছে বৈঠকে। ২০২১ সালে বিধানসভায় কী ফল ছিল, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে বিধানসভা ভিত্তিক কী ফল হয়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে বৈঠকে। কোন জায়গাগুলি সাংগঠনিক খামতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেইমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথে হাঁটছে তৃণমূল। ব্লক ও টাউন সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে এসেছে বৈঠকে।
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে অভিষেক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দলের কে, কোথায়, কী করছেন তার সবেতেই নজর রাখা হচ্ছে। দল আছে বলেই আমরা আছি। দলের জন্যই আমরা। দল আছে বলেই আমরা কেউ সাংসদ, বিধায়ক, পুর চেয়ারম্যান বা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হয়েছি। ফলে দল থাকলে আমরা থাকব। তাই দলকে শক্তিশালী করা আমাদের প্রধান কর্তব্য। পাশাপাশি বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সবাই একসঙ্গে দলের কাজ করতে হবে। একা নয়, সকলকে এক হয়ে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগের সময়টাকে পুরো কাজে লাগাতে হবে। নেতা-কর্মী সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি নিয়ে বুথ স্তরে ব্যাপক আকারে প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি করে থাকতে হবে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরগুলিতে। এর সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বোঝাতে হবে। সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বাংলা ভাষা নিয়েও।
এদিনের বৈঠকে জলপাইগুড়ি জেলার নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এনআরসি’র নোটিস সংক্রান্ত যে ঘটনাগুলি সামনে এসেছে, তার বিরুদ্ধে সরব হতে হবে। মালদহ জেলায় বেশ কয়েকটি গন্ডগোলের খবর এসেছে। তার প্রেক্ষিতে দলগতভাবে কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। গোষ্ঠীদ্বন্দের জন্য মালদহ জেলায় ভোটের ফল খারাপ হবে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত নয় বলে কড়া বার্তা দিল রাজ্য তৃণমূল।