Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোয়েন্দা, সেনা কারও কাছেই খবর ছিল না! নিহত বিতানের প্রিয়জনরা বিস্মিত

পুত্র শোকে বিহ্বল অশীতিপর বীরেশ্বর অধিকারী ও মায়া অধিকারী। সারাটা দিন বাড়িতে লোকসমাগম, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর আনোগোনা।

গোয়েন্দা, সেনা কারও কাছেই খবর ছিল না! নিহত বিতানের প্রিয়জনরা বিস্মিত
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুত্র শোকে বিহ্বল অশীতিপর বীরেশ্বর অধিকারী ও মায়া অধিকারী। সারাটা দিন বাড়িতে লোকসমাগম, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর আনোগোনা। দুপুরে খেয়ে দেয়ে একটু ঘুমনোর সময় তাঁদের। ধীরে ধীরে বড়িশা মৈত্রী সঙ্ঘের পাশের গলিটা ধরে প্রতিবেশীদের আনাগোনা। উদ্বিগ্ন মুখে তাঁরা বলছেন, ‘বুবুনকে জঙ্গিরা মেরে দিয়েছে।’ বাড়ির বাইরে বেরলেন বুবুন অর্থাত্ বিতান অধিকারীর মামা শঙ্কর চক্রবর্তী। বলছিলেন, ‘কোনও গোয়েন্দা, মিলিটারি কারও কাছে সামান্য খবরও ছিল না! ওখানে তো শুনেছি, খুব কড়াকড়ি। সেসব কোথায় গেল?’
এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বিতানের নাকতলা আর বেহালার বাড়ির এলাকাতেও। প্রথম খবর এসেছিল বৈষ্ণবঘাটা লেনের বাড়িতে। মঙ্গলবার দুপুরে বিতানের স্ত্রী সোহিনী তাঁর আত্মীয় দীপক চক্রবর্তীকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানান। বেহালার বাড়িতে বসে বিতানের বাবা ও মা কিছুই জানেন না তখন। খবর ছড়ায় বৈষ্ণবঘাটার বিতান জঙ্গিদের গুলিতে মারা গিয়েছেন। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন বাবা-মা। কাঁদতে কাঁদতেই বিতানের মা বলছিলেন, ‘দুর্গাপুরেই বুবুনের পড়াশোনা। এখানে মামারবাড়িতে থাকত। তারপর বিদেশে চলে যায়। মামা শঙ্করের স্মৃতিচারণায়, ছেলেটা ভেনেজুয়েলাতে জন্মেছিল। এভাবে মারা যাবে, স্বপ্নেও ভাবিনি।’ ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মা কেঁদে চলেছেন। আর বলছেন, ‘নববর্ষের দিন ফোন করেছিল। আমার হার্ট, চোখের অপারেশনের সমস্ত খরচ সব বুবুনের। মাসে ১০-১২ হাজার টাকা ওষুধ লাগে।’ তাঁর দাবি, ‘যাদের জন্য আমাদের সন্তান চলে গেল, তাদের শাস্তি চাই।’ বিতানের বাবা বলছিলেন, ‘আর কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখব। ছেলেটাই চলে গেল।’ এদিকে সোহিনীর মা থাকেন বাংলাদেশে। উদ্বিগ্ন হয়ে তিনিও বারবার ফোন করছেন।
মঙ্গলবার রাতেই বিতানের বৈষ্ণবঘাটার বাড়িতে এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পৌঁছেছিলেন। এদিন সকালে মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ মালা রায় বেহালার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সমস্তরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। এদিন বৈষ্ণবঘাটার বাড়িতে যান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবতী ও কল্লোল মজুমদার।

Advertisement

ছবি আছে (ভাস্করদা)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ