Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

কোনও ভুয়ো কর্মী মেলেনি, সাফাই মধ্যপ্রদেশ সরকারের

সরকারি নথিতে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫০ হাজার সরকারি কর্মীর বেতন না ছাড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল মধ্যপ্রদেশ সরকার। রাজ্য ট্রেজারি থেকে চিঠি পাওয়ার পর সরকারের তরফে নিষ্ক্রিয় কর্মীদের তথ্য বেতন তালিকা থেকে মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

কোনও ভুয়ো কর্মী মেলেনি, সাফাই মধ্যপ্রদেশ সরকারের
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: সরকারি নথিতে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫০ হাজার সরকারি কর্মীর বেতন না ছাড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল মধ্যপ্রদেশ সরকার। রাজ্য ট্রেজারি থেকে চিঠি পাওয়ার পর সরকারের তরফে নিষ্ক্রিয় কর্মীদের তথ্য বেতন তালিকা থেকে মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে ওই ৫০ হাজার কর্মীকে বেতন দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে ২৩০ কোটি টাকার এই বেতন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মধ্যপ্রদেশে। ওই কর্মীদের সরকারি নথিতে নাম রয়েছে। এমপ্লয়ি কোডও রয়েছে। বেতন না দেওয়া সত্ত্বেও তা নিয়ে কিন্তু কেউ অভিযোগ ওঠেনি। তারপরই জল্পনা ছড়ায়, তাহলে কি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মধ্যপ্রদেশের ফাইলের তলায় কোনও রহস্য চাপা রয়েছে? এই ৫০ হাজার সরকারি কর্মী কি আদতে ভুয়ো? সরকারি খাতায় ভুয়ো কর্মী দেখিয়ে বেতনের টাকা কেলেঙ্কারি চলছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পরেই  গত ২৩ মে মধ্যপ্রদেশ সরকারের কমিশনার অব ট্রেজারি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (সিটিএ) রাজ্যের ৬ হাজারের বেশি ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারকে (ডিডিও) চিঠি লিখে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সিটিএর অধীন স্টেট ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেল (এসএফআইসি) ট্রেজারির তথ্যভাণ্ডারের পুঙ্খনাপুঙ্খ পরীক্ষা চালায়। নিষ্ক্রিয় আইডিগুলি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী তথ্যভাণ্ডার আপডেট করার নির্দেশও দেওয়া হয়। মধ্যপ্রদেশ সরকারের দাবি, এখনও কোনও ভুয়ো বা সন্দেহভাজন কর্মী পাওয়া যায়নি। 

Advertisement

তথ্যভাণ্ডার আপডেট করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, স্থায়ী ও অস্থায়ী ৪৪ হাজার ৯১৮ জন কর্মীর মধ্যে ২১ হাজার ৪৬১ জন মারা গিয়েছেন। ১০ হাজারের বেশি কর্মী হয় অবসর নিয়েছেন অথবা ইস্তফা দিয়েছেন বা স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় পাঁচশো জনকে সাসপেন্ড ও দেড় হাজারের বেশি কর্মীর বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরেও ওই কর্মীদের আইডিগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়নি বা চাকরি ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও হয়নি। সরকারি সিস্টেমে ওই কর্মীদের নাম থেকে যাওয়ায় সেগুলির অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে বিড়ম্বনার মুখে পড়ে এই প্রসঙ্গে জবাব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী জগদীশ দেবড়া। তিনি বলেছিলেন, ‘দেখুন, যা যা প্রক্রিয়া মেনে চলা উচিত, নিয়ম মোতাবেকই তা করা হয়েছে। যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে।’ যদিও সরকারের দাবি, নিষ্ক্রিয় কর্মীদের বাদ দেওয়া চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু সরকার কেন ঠিক সময়ে এত সংখ্যক ‘ভূতুড়ে কর্মী’র বিষয়ে তথ্য পেল না, সেই প্রশ্ন এখনও মধ্যপ্রদেশ ট্রেজারির অন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ