


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তুঘলকির নয়া ভরকেন্দ্র রান্নার গ্যাস! কেন্দ্রের মোদি সরকার বরাবর দাবি করে আসছে, রান্নার গ্যাসের জোগানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যে অনেকটাই আলাদা, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন গ্রাহকরা। একে তো যুদ্ধকালীন আবহে রান্নার গ্যাস বুকিং করতেই কালঘাম ছুটছে গ্রাহকদের। কোনোরকমে বুকিং হলেও অনেকে সিলিন্ডার ডেলিভারি পাচ্ছেন না। কারণ, ই-কেওয়াইসি করা নেই! গ্যাস অফিসে খোঁজ নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক জানতে পারছেন, ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে গ্যাস মিলবে না। কীসের ভিত্তিতে এমন ফতোয়া? সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, কেবলমাত্র ‘উজ্জ্বলা’ যোজনার গ্রাহকদের জন্য প্রাথমিকভাবে এই নিয়ম চালু হয়েছিল। সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে যাতে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়, তার জন্য তেল সংস্থাগুলির তরফে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ এসেছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের বক্তব্য, এই নিয়ম যদি মানতেই হয়, তাহলে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে না কেন? গ্রাহকের কাছে জবাবদিহি তো তাঁদেরই করতে হয়। কীসের ভিত্তিতে ই-কেওয়াইসি চাইবেন তাঁরা? ডেলিভারি বন্ধের কারণ হিসাবে গ্রাহক যদি প্রামাণ্য নথি দেখাতে বলেন, কী জবাব দেবেন ডিস্ট্রিবিউটর?
ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা, রান্নার গ্যাসের ডেলিভারি নিয়ন্ত্রণ করতে ইতিমধ্যে ২৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেল সংস্থাগুলি। অর্থাৎ, সিলিন্ডার ডেলিভারির ২৫ দিনের মধ্যে নতুন বুকিং করা যাবে না। এরপরও জোগানে রাশ টানতে ই-কেওয়াইসি না থাকাকে ‘অস্ত্র’ করছে তারা। সাধারণ গ্রাহকের একটা বড়ো অংশের ই-কেওয়াইসি করা নেই। তাহলে কি নিয়মের অজুহাতে তাঁদের সিলিন্ডার ডেলিভারির দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে তেল সংস্থাগুলি? ভরতুকি বাবদ সরকারি খরচে রাশ টানতে ইতিমধ্যে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য তেল সংস্থাগুলিকে চাপ দিচ্ছে। তেল সংস্থাগুলিও ডিস্ট্রিবিউটরদের উপর সেই চাপ জারি রেখেছে। এত কাণ্ডের পরও কেন বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন ডিস্ট্রিবিউটররাই।
এদিকে, সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদেশে রান্নার গ্যাসের সিংহভাগ কাঁচামাল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদি অ্যারামকো এলপিজির কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের যে দর ঘোষণা করে,তার উপর ভিত্তি করেই ভারতে এলপিজির দাম ঘোষিত হয়। সৌদি অ্যারামকো প্রতি মাসের গোড়ায় ওই দুই কাঁচামালের দর ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় সরকার এর আগে রান্নার গ্যাসের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে। সেই সময় প্রোপেন ও বিউটেনের দর ছিল যথাক্রমে টন প্রতি ৬১৫ ও ৬০৫ ডলার। গত নভেম্বরে তা কমে ৪৯৫ ও ৪৭৫ ডলারে নামে। তখন কিন্তু গ্রাহককে দাম কমার সুবিধা দেয়নি কেন্দ্র। বর্তমানে ওই দুই কাঁচামালের দর যথাক্রমে ৫৪৫ ও ৫৪০ ডলার। অর্থাৎ গত বছর এপ্রিলের নিরিখে দাম এখনও কম। অথচ আন্তর্জাতিক যুদ্ধ-পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি কেন্দ্র। আম জনতার প্রশ্ন একটাই, যুদ্ধ থামলে এই দাম কমবে তো?