Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আল কায়েদা নেটওয়ার্কের সন্ধানে রাজ্যে অভিযান চালাল এনআইএ

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার হয়ে অর্থ সংগ্রহ, নিয়োগ এবং নাশকতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্যে অভিযান চালাল এনআইএ’র (দিল্লি) বিশেষ টিম।

আল কায়েদা নেটওয়ার্কের সন্ধানে রাজ্যে অভিযান চালাল এনআইএ
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার হয়ে অর্থ সংগ্রহ, নিয়োগ এবং নাশকতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্যে অভিযান চালাল এনআইএ’র (দিল্লি) বিশেষ টিম। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম, শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার পাশাপাশি সীমান্ত রাজ্য ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের সঙ্গেই হরিয়ানা ও গুজরাতেও অভিযান চালিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাংলাদেশি জঙ্গিদের এপারে আশ্রয় ও ভারতীয় নথিপত্র জোগাড়ে সাহায্য করা লোকজনকে খুঁজে বের করাও ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য। তবে গত রবিবার গুজরাতের আমেদাবাদে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিষাক্ত টক্সিন রাইসিন সহ গ্রেফতার হওয়া এক ডাক্তার সহ তিন আল কায়েদা জঙ্গির সঙ্গে এদিনের অভিযানের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। 

Advertisement

এদিনের অভিযানে কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও, প্রচুর আপত্তিকর কাগজ, ব্যাংকের লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র, মোবাইল সহ নানা ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আল কায়েদার বাংলাদেশি ইউনিটের লোকজন চোরাপথে এপারে এসে ‘ভারতীয়’ সেজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম ও মেঘালয়ে এদের লজিস্টিক সাহায্য দিয়েছে আল কায়েদার স্থানীয় এজেন্টরা। গুজরাত পুলিশ এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কয়েকজনকে প্রথমে গ্রেফতার করে। তাদের জেরা করে আল কায়েদার ‘প্যান ইন্ডিয়া’ জাল বিস্তারের বিষয়টি জানা যায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির তদন্তভার এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। আল কায়েদার এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত চার বাংলাদেশি এবং ফরিদ নামে এক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ওই বছরেরই ১০ নভেম্বর চার্জশিট পেশ করে এনআইএ। 
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেজে থাকা বাংলাদেশি আল কায়েদা জঙ্গিদের এটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে লুকিয়ে রয়েছে। এদের বেশ কয়েকজন লোক গা-ঢাকা দিয়েছে হরিয়ানা, গুজরাত, অসম এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই জঙ্গিদের খোঁজে অভিযান চলেছে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার পাথরঘাটা, মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের নিমগ্রাম, ত্রিপুরার আগরতলা ও তার সন্নিহিত এলাকা, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি ও ডাউকি সহ আরও কয়েকটি জায়গায়। এনআইএর ওই সূত্রটি জানিয়েছে, আল কায়েদার ‘লজিস্টিক টিম’-এর দুই মাথা জাজ মিয়াঁ ও শান্ত এখনও পলাতক। কখনও ত্রিপুরা আবার কখনও মেঘালয়, কখনও পশ্চিমবঙ্গ থেকে এদের ‘তৎপরতা’ সামনে আসছে। এরাই সীমান্ত পার করিয়ে আল কায়েদার বাংলাদেশি জঙ্গিদের এপারে নিয়ে আসত। এপারে জাল বিস্তারে এরা সাহায্য করত আল কায়েদাকে।

সম্পর্কিত সংবাদ