


ঢাকা: বাংলা নববর্ষে ঢাকায় ফিরে এল পুরানো ছবি। ঐতিহ্য মেনে ছায়ানটের গানেই নতুন বছরকে স্বাগত জানালেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। রীতি মেনে বাংলাদেশে মঙ্গলবার পালিত হয়েছে পয়লা বৈশাখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’য় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। যদিও শোভাযাত্রার নামকরণ নিয়ে এবারও চর্চা হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে পয়লা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বের হত। কিন্তু মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উগ্রপন্থীদের চাপে নামকরণ হয় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’।
বিএনপির আমলে এবার ফের নাম বদল হল। যদিও তাতে অংশগ্রহণকারীদের উত্সাহে কোনো ভাটা পড়েনি। হাতি, পায়রা, পুতুল, ঘোড়া, মোরগ ও দোতারার মোটিফ বা প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তাঁরা।
যদিও সকলের নজর ছিল রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানের দিকে। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানটের কার্যালয় তছনছ করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল কট্টরপন্থীরা। ভেঙে দেওয়া হয় প্রচুর বাদ্যযন্ত্র। সেই জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানেই নববর্ষের উত্সব শুরু। এবার প্রভাতী অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলি জানিয়েছেন, ছায়ানট সহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রের উপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে। এই আক্রমণের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে তাঁরা নির্ভয়ে গান করতে চান।