সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলায় অটো জালিয়াতি। নয়া কায়দায় বেকার যুবকদের অটো-ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পর সেই অটো নিয়ে ভাড়া খেটে ফেলল তিন-চার মাস। এই তিন-চার মাসেই আয়ই হল জালিয়াত চক্রের লোকজনের মুনাফা। তবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অটো বাজেয়াপ্ত করার পর জালিয়াতির ছক ধরতে পারেন ঋণগ্রহণকারী যুবকরা। তাঁরা পুলিসের দ্বারস্থ হলে শেষমেশ ওই চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন বেহালা এবং দু’জন মহেশতলার বাসিন্দা। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গোটা ঘটনা ফাঁস হয়। তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অটো জালিয়াতির মামলা রুজু হয়েছে।
বেকার যুবকদের অটো কেনার জন্য ঋণ পাইয়ে দেবে বলে টোপ দিয়েছিল জালিয়াত চক্রের লোকজন। সেই মতো তারা সংশ্লিষ্ট যুবকের আধার, প্যান, ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাশবই জোগাড় করে। মহেশতলার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণেরও ব্যবস্থা করে দেয় তারা। তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে ব্যাঙ্কের এজেন্টও যুক্ত থাকতে পারে। ঋণ বেরনোর সঙ্গে সঙ্গেই অটো কিনে দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট যুবকদের। তবে এখানেই শর্ত বেঁধে দিচ্ছে তারা। শর্ততে রয়েছে, লাইসেন্স বের করতে হলে তাদের দু’-এক মাস অটো চালাতে দিতে হবে। দু’-এক মাসের কথা ভেবে প্রতারিতরা সরল বিশ্বাসে ওই শর্ত মেনে নেন। এরমধ্যেই জালিয়াতির দ্বিতীয় পর্ব শুরু করে দেয় তারা। অটোর প্রকৃত মালিকদের অন্ধকারে রেখে মোটর ভেহিক্যালসে গিয়ে তারা ভুয়ো কাগজ তৈরি করে নিজেদের ক্রেতা সাজিয়ে ওই অটো বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে নিজেদের নামে লাইসেন্সও বেরিয়ে গিয়েছে তাদের। এদিকে, ওই ঋণ গ্রহণকারী যুবকরা ততদিনে কিছু না বুঝে ব্যাঙ্কের দু’ মাসের কিস্তি মিটিয়ে দিয়েছেন। তিন-চার মাসের মাথায় যখন আর কিস্তির টাকা জমা পড়ছে না, তখন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ লোক পাঠিয়ে ওই অটো ‘সিজ’ করে নিয়ে চলে যায়। মাসে চার মাস ওই অটো চালিয়ে যা আয় করতে পেরেছে জালিয়াতরা, সেটাই তাদের লাভ। হাতছাড়া হওয়ার পর তার প্রকৃত মালিকরা বিষয়টি জানতে পারেন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে মহেশতলা থানায় অভিযোগ জানান তাঁরা। তদন্তে নেমে পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।