


কাঠমাণ্ডু: ২৪ ঘণ্টাও কাটল না! এর মধ্যেই বদলে গেল নেপালের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী নেতার নাম। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকিকে পিছনে ফেলে আচমকাই উঠে এল এক ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের নাম... কুলমান ঘিসিং। সৌজন্যে বিদ্রোহী ‘জেন জি’ নেতৃত্বের মধ্যে চলা মতবিরোধ। তার জেরে শেষ পর্যন্ত নেপাল বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রাক্তন প্রধান ঘিসিংয়ের নামেই বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে বলে খবর। ফলে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এখন এগিয়ে ভারতের জামশেদপুর রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এই প্রাক্তনী। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে এদিন সামনে চলে এল নেপালি যুবসমাজের অন্দরের ফাটল। সেই ফাটল এতটাই চওড়া যে, নেতা বাছাই নিয়ে বচসা নিমেষে পরিণত হল হাতাহাতিতে। আর সেটাও একেবারে প্রকাশ্য রাস্তায়। নেপালি সেনার সদর দপ্তরের বাইরে। ভিতরে তখন নতুন নেতা বাছাই নিয়ে বৈঠক চলছে। সেই সময় বাইরে মারপিট করতে দেখা গেল সুশীলা কারকি ও কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহের সমর্থকদের। ছিল তৃতীয় একটি গোষ্ঠীও। ধারনের মেয়র হরকা সম্পাংয়ের সমর্থকরা। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে তিনিও একজন ‘স্বঘোষিত’ দাবিদার! সাম্পাং নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় বালেন্দ্রকে ‘কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর সমর্থকরা এদিন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই তিন গোষ্ঠীর মতবিরোধের জেরেই চলল এলোপাথাড়ি ঘুসি, এমনকী রাস্তায় ফেলে মার। শেষপর্যন্ত সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
কিন্তু হঠাৎ করে কেন ‘জেন জি’ প্রতিনিধিদের এই মতবিরোধ? সূত্রের খবর, কারকির নামে প্রাথমিক অনুমোদনের পরও দু’টি কারণে আপত্তি তোলে যুব প্রতিনিধিদের একটা অংশ। এক, দেশের কোনও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসার অনুমতি সংবিধান দেয়নি। দুই, কারকির বয়স ৭২ বছর। তাই তাঁকে যুবসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নিতে রাজি হননি অনেকেই। বিকল্প হিসেবে কুলমান ঘিসিংয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। নেপালকে লোডশেডিং তথা বিদ্যুৎ সঙ্কট থেকে মুক্তি দেওয়া এই ইঞ্জিনিয়ার দেশকে অস্থিরতার অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
গতকাল ‘জেন জি’র সমর্থন লাভের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা শোনা গিয়েছিল সুশীলা কারকির কণ্ঠে। এদিন সরকার গড়ার প্রস্তুতি হিসেবে কাঠমাণ্ডুর ভদ্রকালীতে সেনার সদরদপ্তরে তাঁর বৈঠকের খবর সামনে আসে। নেপালে রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনকারী দুর্গা প্রাসাই সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা যায়। তাঁকে দেখেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায় ‘জেন জি’ প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ। তারই মধ্যে আচমকা বাইরে মারপিট শুরু হয়ে যায়। যদিও পরে সকলে সর্বসম্মতভাবে ঘিসিংয়ের নামে চূড়ান্ত সম্মতি দেন। এরপর নতুন নেতা বেছে নিতে সেনা সদরদপ্তরে ‘জেন জি’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌড়েল ও সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগদেল। পরে আন্দোলনকারীদের একটা অংশ সাফ জানায়, সংবিধান বদলের দাবি তাঁরা তোলেননি। সেই দাবি যারা তুলছে, তারা বাস্তবে রাজতন্ত্রপন্থী। সেনার তরফে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সত্যতা মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সেনার মুখপাত্র এখনই সম্ভাব্য নেতা হিসেবে কোনও নাম জানাতে চাননি। এই পরিস্থিতিতেও অবশ্য বন্দিদের জেল ভাঙার চেষ্টা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার আরও একটি কারাগারে অশান্তি ছড়ায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় তিন বন্দির।