কাঠমান্ডু: চোখে কালো চৌকো সানগ্লাস। পরনে সাদা টি শার্ট। তার উপরে কালো রঙের কোট। গলায় লাল উত্তরীয়। চেনা স্টাইলে অনুরাগীদের ভিড়ের মিশে যাচ্ছেন ৩৫ বছরের বলেন্দ্র শাহ। বলছেন, ‘আমার চোখের দিকে তাকান। বলুন, আমাকে ভালোবাসেন।’ এই কথায় উল্লাসে ফেটে পড়ছে হাজার হাজার নেপালি তরুণ-তরুণী। জেন জি আন্দোলন পরবর্তী নেপালে আজ সাধারণ নির্বাচন। এই ভোটে বলেন্দ্রকেই প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বলেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নেপালের রাজনীতিতে নবাগত। এই মধ্যপন্থী দলের প্রার্থী হিসাবে ঝাপা-৫ আসন থেকে লড়াই করছেন বলেন্দ্র। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। দলের নির্বাচনি ইশতেহারে বড়ো দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনে পতন হয় ওলি সরকারের। হিংসাত্মক সেই অভ্যুত্থান কমপক্ষে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালেও সরাসরি শামিল হননি বলেন্দ্র। তাঁর যুক্তি ছিল, ৩৫ বছরের বেশি বয়সের কারও হাতে জেন জি আন্দোলনের রাশ থাকুক, তা তিনি চান না। এজন্য তাঁর জনপ্রিয়তায় আরও জোয়ার এসেছে। দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে জেন জির পছন্দের তালিকায় বলেন্দ্র সবার আগে বলেই মনে করা হচ্ছে। ‘বলেন’ নামে পরিচিত কাঠমান্ডুর মেয়রের সোশ্যাল মিডিয়া মারফত বার্তা , ‘প্রিয় জেন জি, আপনার খুনিদের সময় শেষ। আপনাদের প্রজন্মকে এখন দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। এজন্য প্রস্তুত হন।’ বলেন্দ্রর জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারীর কথাতেও। তিনি জানান, এখন তো কাঠমান্ডুগামী অনেক বাসের গায়েও ‘বলেনের শহরে যাচ্ছি’ লেখা স্টিকার থাকে।
১৯৯০ সালে জন্ম বলেনের। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার পর ভারতে উচ্চশিক্ষা। দেশে ফিরে র্যাপার এবং সুরকার হিসাবে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বলেন্দ্র। দুর্নীতি ও আর্থিক বৈষম্যর মতো সমস্যা নিজের গানে তুলে এনে তরুণ-তরুণীদের হার্টথ্রব হয়ে ওঠেন বলেন্দ্র। এরই হাত ধরে রাজনীতির ময়দানেও আসেন তিনি। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ৬১ হাজার ভোটে জয়ী হন বলেন্দ্র। প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিকদের হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। এবার কী প্রধানমন্ত্রী? আজ ভোটের পর ব্যালট বক্স খুললেই তার উত্তর মিলবে।