


কাঠমাণ্ডু: ছাত্র-যুবদের প্রবল বিক্ষোভ। অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা। পার্লামেন্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয় সর্বত্র ভাঙচুর-আগুন। মন্ত্রীদের মারধর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া। অবাধে লুটপাট। জেল ভেঙে বন্দিদের পালাতে সাহায্য করা। নতুন অন্তর্বর্তী নেতাকে বেছে নেওয়া। এবং শেষ পর্যন্ত সদ্যপ্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর গদি হারানোর জন্য ভারতকেই পরোক্ষে দায়ী করা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পথেই হাঁটছে নেপাল! ‘জেন জি’ আন্দোলনের চাপে মঙ্গলবারই ইস্তফা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। সেনার হেলিকপ্টারে তাঁকে কাঠমাণ্ডু ছাড়তে দেখা গিয়েছিল। বুধবার ‘অজ্ঞাতবাস’ থেকে ওলির লেখা একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তাঁর দলের মিডিয়া সংগঠনের সভাপতি গণেশ পান্ডে। ‘প্রিয় জেন জি’কে লেখা সেই চিঠিতে সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তিনি বর্তমানে শিবপুরীতে নেপালি সেনার বারাকে রয়েছেন। তাঁর গদি হারানোর নেপথ্যে ছাত্র-যুবরা নয়, রয়েছে বড় ষড়যন্ত্র। চিঠির শেষদিকে ওলি স্পষ্ট লিখেছেন, ‘আমি জোর গলায় বলেছি যে, লিপুলেখ, ব্ল্যাকওয়াটার এবং লিম্পিয়াধুরা আমাদের। এমনকী শাস্ত্র অনুযায়ী ভগবান শ্রীরাম যে ভারতে নয়, নেপালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেকথাও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছি। এই অবস্থানে অনড় না থাকলে আমি হয়তো আরও অনেক সুযোগ পেতাম।’ লিপুলেখ, ব্ল্যাকওয়াটার এবং লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে নেপালের। ফলে গদি হারানোর জন্য ওলি যে পরোক্ষে নয়াদিল্লির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, সেটা কার্যত পরিষ্কার। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ভারত।
কিন্তু এই মুহূর্তে এই দোষারোপের থেকেও বড় প্রশ্ন—নেপালের ভবিষ্যৎ কী? নেই স্পষ্ট উত্তর। হিংসা বন্ধে দেশজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে নেপালি সেনা। এদিন থেকেই জারি হয়েছে কার্ফু। তাহলে কি সেনাশাসনই ভবিতব্য? জল্পনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে নেপালের অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম অনুমোদন করেছে ‘জেন জি’ প্রতিনিধিরা। পাঁচ হাজারের বেশি তরুণ এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যেমে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বেছে নিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের পছন্দ হিসেবে পয়লা নম্বরে ছিলেন কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ। তবে যুবসমাজের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি ফোন ধরেননি। বাধ্য হয়েই অন্যান্য নাম নিয়ে বিবেচনা শুরু হয়। কারকি অবশ্য এব্যাপারে সম্মতির শর্ত হিসেবে অন্তত এক হাজার আন্দোলনকারীর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে ৭২ বছর বয়সি এই বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীর সমর্থনে। নেপালের বিরাটনগরের বাসিন্দা সুশীলাদেবীর বাড়ি থেকে ভারত সীমান্ত মাত্র ২৫ কিমি দূরে। এদিন ‘জেন জি’ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
ঘটনাচক্রে শেখ হাসিনার পতনের পর আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব মেনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। নেপালও কি তাহলে বাংলাদেশের দেখানো পথেই এগচ্ছে? যদিও কারকির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদে বসা এখনও নিশ্চিত নয়। নেপালি সেনা এবং প্রেসিডেন্টের সম্মতি মিললে তবেই কুর্সিতে বসবেন তিনি। সেই অনুমোদন কি মিলবে? বাড়ছে আগ্রহ।